কাফির ও বাতিলের শক্তিগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে জুলুম ও বর্বরতার একই ইতিহাস বারবার পুনরাবৃত্তি করেছে। তারা একে শক্তি, ক্ষমতা, ধৈর্য ও টিকে থাকার নাম দেয়। এ কারণেই তারা সবসময় মুসলমানদের ওপর জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে নিজেদের বাতিল চিন্তা ও বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, তারা সত্যকে দমন করে তার জায়গায় নিজেদের বাতিলকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
হক ও বাতিলের সংঘাত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে। বাতিল হকের কাছে মাথা নত করে না, আর হকও বাতিলের কাছে মাথা নত করে না।
আফগানিস্তানের মুজাহিদ জনগণের ইতিহাস সবসময়ই সাহস ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। কোনো শক্তিকেই এখানে চিরকাল তার ঔদ্ধত্য ও অহংকার বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ঈমান ও মুজাহিদসুলভ চেতনার মাধ্যমে আফগান জনগণ এমন সব সম্রাট ও দখলদার শক্তিকে পরাজিত করেছে, যারা বস্তুগত সম্পদ, অস্ত্র ও পার্থিব উপকরণে তাদের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী ছিল। তারা ঈমান, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনার মাধ্যমে তাদের পরাজিত করে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেছে।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তার সময়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। সারা বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে তারা এগিয়ে গিয়েছিল। তারা যেখানেই গেছে, সেখানেই রক্তপাত ও ধ্বংসের চিহ্ন রেখে গেছে। অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি যখন আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ও রাজনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করল এবং অসহায় আফগানদের বিরুদ্ধে নিজেদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করল, তখন বস্তুগত উপকরণে দুর্বল হলেও ঈমান ও সাহসে সমৃদ্ধ আফগান জনগণ সেই সাম্রাজ্যের মোকাবিলা করার সাহস দেখাল এবং প্রথমবারের মতো তাকে পরাজিত করল।
এরপর বছরের পর বছর যুদ্ধ চলেছে। কিন্তু আফগান মুজাহিদ জনগণের আত্মত্যাগের ফলস্বরূপ ১২৯৮ হিজরি শামসির ২৮ আসাদে সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য ও সবচেয়ে শক্তিশালী পরাশক্তি পরাজয় ও পলায়নের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। বিশ্বের চোখের সামনে কোনো বৃহৎ সাম্রাজ্যকে আফগানদের হাতে ভেঙে পড়তে দেখার ঘটনা আমাদের ইতিহাসে এটাই ছিল প্রথম। আর তা পরবর্তীকালে অন্যান্য জাতির স্বাধীনতার পথেও আলোর দিশা হয়ে ওঠে।
এ কারণেই আফগানিস্তানকে ‘সাম্রাজ্যগুলোর কবরস্থান’ বলা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাতিল ও কুফর এই ভূখণ্ডে এসেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এখানেই তাদের পতন ও পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইতিহাসের লজ্জা ও অপমানের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্তগুলোর কিছু তারা এখানেই রেখে গেছে। আমাদের পূর্বপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তৎকালীন পরাশক্তিগুলোকে পরাজিত করা যেন আমাদের জন্য একপ্রকার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর যে শক্তিই নিজের সামর্থ্য ও ক্ষমতা নিয়ে যত বড় বড় দাবি করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন, রাশিয়া ও আমেরিকার মতো এমন অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, যখন নিজেদের স্বার্থ ও ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতাটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না।
এই গৌরবময় ও বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসের আলোকে আমরা তাদের আবারও একই বার্তা দিচ্ছি: আফগানিস্তানকে শত্রুভাবাপন্ন দৃষ্টিতে দেখা, কিংবা তাকে দুর্বল দেশ মনে করা এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এখানে প্রবেশ করা অত্যন্ত তিক্ত পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ভবিষ্যতে আপনারা ও আপনাদের শক্তিও আবার আফগানদের জন্য হাসি-তামাশার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। অতএব, আফগানদের অহংকার, ঈমান, মূল্যবোধ ও স্বাধীনতাকে সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
কেউ এই জাতিকে দুর্বল কিংবা আদর্শহীন মনে করবে না। এখানে ঈমান আছে, আছে জিহাদের চেতনা। এই ঈমান ও চেতনাই আফগান জনগণের অপরিবর্তনীয় অস্ত্র, এমন এক অস্ত্র যার মরিচা ধরে না। ইতোমধ্যে এই অস্ত্র তিনটি বৃহৎ পরাশক্তিকে ভেঙে দিয়েছে।





















