আইইএ-এর ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি!

✍🏻 ​আজমল

“ভারসাম্যপূর্ণ নীতি” এমন একটি শব্দবন্ধ যা আফগানিস্তানের ইসলামি ইমারাতের (আইইএ) নেতৃত্ব কেবল স্লোগান হিসেবে নয়, বরং একটি পথপ্রদর্শক নীতি হিসেবে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। কেউ কেউ হয়তো ধারণা করতে পারেন যে এটি সাধারণ বাগাড়ম্বর মাত্র, যা কেবল জনমত নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যে কেউ যদি ইসলামি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার দিকে সততার সাথে তাকান, তবে দেখতে পাবেন যে এই নীতিটি শুধু কথার কথায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। আইইএ এটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডে সাধারণত কর্মকর্তাদের বক্তব্যেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উভয় বিষয়েই আইইএ-এর অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। এর কর্মকর্তারা বারবার উল্লেখ করেছেন যে, দেশ ইসলামি আইন অনুযায়ী শাসিত হবে, আফগান ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করার অনুমতি দেওয়া হবে না। যখনই দেশের নিরাপত্তা বা জনগণের শান্তি বিঘ্নিত হবে, তখনই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু মহল, বিশেষ করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা, রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে আফগানিস্তানের সম্পর্ককে অন্যদের জন্য একটি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এটি নতুন কিছু নয়। আফগানিস্তান সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির উদ্দেশ্যে এর আগেও বহুবার এ ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবুও এই প্রচেষ্টাগুলো বারবার ব্যর্থ হয়েছে, কারণ আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অনধিকারচর্চা না করা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। অন্যান্য দেশের সাথে এর সম্পর্ক ইসলামি নীতি এবং আফগান জাতির স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়।

আফগানিস্তান একটি স্বাধীন দেশ। অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের মতো, নিজের স্বার্থ ও মূল্যবোধের সাথে সংগতি রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্থাপন করার অধিকার এর রয়েছে। রাশিয়া, চীন বা অন্য কোনো দেশের সাথে সুসম্পর্ককে অন্য কারো প্রতি শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অংশ, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে সহযোগিতা কামনা করে।

ইসলামি আইন প্রজ্ঞা, অঙ্গীকার রক্ষা, স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা এবং মুসলিমদের স্বার্থ সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনদ্দশায় উম্মাহর কল্যাণের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন গোত্র, গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করেছিলেন এবং সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এই কারণে, অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক ও চুক্তি স্থাপন করা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য এবং বৈধ—যদি তা আফগান জনগণের মর্যাদা, দেশের স্বাধীনতা বা এর ইসলামি ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি না করে।

আইইএ-এর পররাষ্ট্রনীতি মূলত সকল দেশের সাথে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা, অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং ইসলামি মূল্যবোধের সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আফগানিস্তান সবার সাথে সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক চায়। একই সাথে, এটি ইসলামি আইন, জাতীয় স্বাধীনতা এবং দেশের বৈধ স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

Exit mobile version