আল-মিরসাদ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ, জিহাদি আন্দোলনসমূহ, বুদ্ধিবৃত্তিক মহল, ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষস্থানীয় চিন্তাবিদদের এবং আফগানিস্তান ও গাজার বীর ও মর্যাদাবান জনগণকে ঈদুল আযহা উপলক্ষে আন্তরিক মোবারকবাদ ও গভীর অভিনন্দন জানাচ্ছে।
ঈদুল আজহার আগমন মূলত স্মরণের একটি মরসুম। এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম এক অসাধারণ ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়; সেই মুহূর্তটি, যখন ইবরাহিম (আ.) এবং তাঁর তরুণ পুত্র ইসমাঈল (আ.) মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের চরম শিখরে এবং আত্মসমর্পণের সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন। ঈদ কেবল একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যের আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়; এটি মানবপ্রেম, ভক্তি এবং স্রষ্টার ইচ্ছার প্রতি আত্মসমর্পণের এক চিরন্তন ও সর্বজনীন প্রতীক।
এই বরকতময় দিনগুলো মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতিনিধিত্ব করে। ইবরাহিমী ঐতিহ্যের মূল দর্শন হলো—সত্যের সন্ধান এবং মজলুমদের রক্ষায় একজন মুসলিমকে অবশ্যই তার সমস্ত পার্থিব লালসা ও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এটি সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব এবং সংহতির এমন এক চেতনা যা এই উম্মাহর সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
দুঃখের বিষয়, এই বছর উম্মাহ যখন এই মহান উৎসব উদযাপন করছে, তখন এর প্রকৃত ও জীবন্ত অর্থ গাযযাসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে, যেখানে মানুষ দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের মধ্যে বসবাস করছে—রক্তের অক্ষরে লেখা হচ্ছে। ইসলামের হৃদপিণ্ডের একটি অংশ, গাযযা আজ মানবতার বিবেকের এক মহাপরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। সেখানে মায়েরা, শিশুরা এবং বৃদ্ধরা প্রতিদিন তাদের ঈমান ও মাতৃভূমি রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট ও সতর্ক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, পর্দার আড়ালে কিছু সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত হাত কাজ করছে, যারা মুসলিমদের আনন্দকে শোকে পরিণত করতে চায়। জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী, আইএসআইএস (ISIS) ফিতনা এবং অঞ্চলের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সামরিক জান্তার সমন্বয়ে গঠিত এই গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আসলে একই মুদ্রার ভিন্ন ভিন্ন পিঠ মাত্র।
তবে এই সমস্ত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ষড়যন্ত্রের মধ্যেও, আফগানিস্তানের পবিত্র মাটিতে ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তানের (IEA) বিজয় এবং এর বীর বাহিনীর প্রতিরোধ সমগ্র উম্মাহর জন্য আশার আলো হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের সাহসী মুজাহিদিনরা, ইব্রাহিমী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেবল বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও দখলদারিত্বের অহংকারকেই চূর্ণ করেননি, বরং নিজেদের রক্ত দিয়ে তারা আইএসআইএস ফিতনাকে দাফন করেছেন এবং শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রক্সি (ছায়া) পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
এই অতুলনীয় ত্যাগের বরকতে সমগ্র দেশজুড়ে এক ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যে নিরাপত্তার জন্য আফগান জনগণ দশকের পর দশক ধরে তৃষ্ণার্ত ছিল। আজ এই ভূমির প্রতিটি কোণ থেকে বারুদের গন্ধ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব ও অগ্রগতির সুর ভেসে আসছে।
ঈদুল আজহার বার্তা এটাই, যতদিন এই উম্মাহর দেহে ত্যাগ, ঐক্য এবং প্রতিরোধের ইবরাহিমী চেতনা জাগ্রত থাকবে, ততদিন কোনো গোয়েন্দা ষড়যন্ত্রই একে নতজানু করতে পারবে না।
আমরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি যেন তিনি ইসলামী ব্যবস্থার প্রতিরক্ষামূলক দুর্গ ও কাতারগুলোকে আরও শক্তিশালী করেন, আমাদের মাতৃভূমির নিরাপত্তাকে স্থায়ী করেন এবং গাজার বীর জনগণসহ বিশ্বের সমস্ত নিপীড়িত মুসলিমকে অন্যায় ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকগোষ্ঠীর কবল থেকে পূর্ণ মুক্তি ও বিজয় দান করেন।
তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম সালিহাল আমাল। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের নেক আমলসমূহ কবুল করুন।
