কঠিন পরিস্থিতিতে শান্তির প্রস্তাব, আবার স্বাভাবিক অবস্থায় হামলার ধারাবাহিকতা! ​

✍🏻 সাইফুদ্দীন

আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তাদের মুনাফেকী বা দ্বিমুখী আচরণের কারণে যেন ‘কালোবাজারি রাজনীতিতে’ প্রথম স্থান অধিকার করেছে। দীর্ঘকাল ধরে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বারবার শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে। যেহেতু দাঈশ (আইএস)-এর মতো বর্বর সংগঠন পাকিস্তানে ব্যাপক প্রভাব, কেন্দ্র এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তুলেছে, তাই যখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ে, তখনই তারা শান্তি ও সমঝোতার আওয়াজ তুলতে শুরু করে। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই তথাকথিত ডুরান্ড লাইনের আশেপাশে বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকদের ওপর পুনরায় জুলুম এবং নির্বিচারে বোমা হামলা শুরু করে দেয়।

বারবার পুনরাবৃত্তি হওয়া এই দ্বিমুখী নীতি কেবল পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মনে শান্তির প্রতি বিশ্বাসকেই দুর্বল করে না, বরং তাদের মনে এই ধারণাও তৈরি করে যে, কেবল রাজনৈতিক স্লোগান কখনো বাস্তব পদক্ষেপের বিকল্প হতে পারে না।

একইভাবে, পাকিস্তানি সামরিক জান্তার এই মুনাফেকী চরিত্র দেখে অনেক প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাও বিস্মিত ও বিভ্রান্ত। একদিকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বারবার শান্তির কথা বলে, কিন্তু অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ কমার সাথে সাথেই সেই দাবির পরিণতি নির্দোষ ও মযলুম আফগানদের শাহাদাত এবং ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

পাকিস্তান সরকার সম্পর্কে অঞ্চলের সচেতন সূত্রগুলোর রিপোর্টও বলছে যে, সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মদত দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর, বিশেষ করে দাঈশের প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন এবং সমর্থনের ওপর বেশি মনোযোগ দিয়েছে। পাকিস্তান সরকার যখন তাদের প্রক্সি বা ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক ও বিশ্বশান্তিকে হুমকির মুখে ফেলে, তখন শান্তির কথাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই কেবল রাজনৈতিক বিবৃতি যথেষ্ট নয়; আস্থার পরিবেশ তৈরির জন্য বাস্তব পদক্ষেপ অপরিহার্য।

এর বিপরীতে, ইসলামি ইমারাত আফগানিস্তান সর্বদা অঞ্চল ও বিশ্বশান্তি এবং স্থিতিশীলতার প্রতি কেবল প্রতিশ্রুতিই দেয়নি, বরং এ বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, বিশ্বশান্তি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কারণেই ইসলামি ইমারাত প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আন্তরিকতা ও সততার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

পাকিস্তান আমাদের একমাত্র প্রতিবেশী নয়, বরং আমাদের আরও পাঁচটি প্রতিবেশী দেশ রয়েছে এবং তাদের সবার সাথে ইতিবাচক বিনিময়ের ভিত্তিতে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। এই পাঁচটি প্রতিবেশী দেশই আমাদের ওপর সন্তুষ্ট এবং খুশি, কারণ আমরা কারো সাথে শত্রুতা চাই না। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে যেভাবে শান্তি বিরাজ করছে, একইভাবে আমরা পুরো অঞ্চলেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনা করি।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পাকিস্তানের সামরিক জান্তার প্রোপাগান্ডা কেবল রাজনৈতিক অভিযোগের ভাষা ব্যবহার করে। ইসলামি ইমারাতকে কলঙ্কিত করার জন্য এমন সব তুচ্ছ বিষয়কে সামনে আনা হয় যেগুলোর সাথে ইসলামি ইমারাতের কোনো সম্পর্ক নেই অথবা সেগুলো নিছক মিথ্যা অভিযোগ ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে ইসলামি ইমারাত সম্পর্কে বহির্দেশের প্রোপাগান্ডা নির্ভর রিপোর্টগুলোকে উপেক্ষা করা এবং ইসলামি ইমারাতের সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত তথ্যগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা; কারণ সেগুলোই অঞ্চল ও বিশ্বশান্তির প্রকৃত গ্যারান্টি।

Exit mobile version