সন্ত্রাসমুক্ত আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর অসহায়ত্ব!

✍🏻 আবিদ

ভৌগোলিক অবস্থান এবং ইতিহাসের বাস্তবতায় আফগানিস্তান এমন একটি দেশ, যা গড়ে উঠেছে পাহাড় এবং উপজাতীয় ভিত্তির ওপর। তার দীর্ঘ ইতিহাস জুড়ে এই দেশটিকে সর্বদা রক্ষা করেছে এর প্রাকৃতিক পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং উপজাতিগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক দৃঢ় বন্ধন। একইভাবে, এই সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা সরকারগুলো সবসময়ই জনগণের সমর্থন লাভ করেছে এবং দেশের প্রতিরক্ষায় জনগণ তাদের পেছনে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামি ইমারাত আফগানিস্তান (আইইএ)-ও এমন একটি সরকার, যা আফগান জাতির ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকেই উত্থাপিত হয়েছে। এই সরকার তার জনগণ ও মাটিকে রক্ষা করার জন্য নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে কাজ করেছে এবং এখনও কাজ করে যাচ্ছে।

যেহেতু এই জাতি তার ব্যবস্থার পেছনে দাঁড়িয়েছে এবং এর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে, তাই মাঝেমধ্যেই এটি সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আরও একবার, পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠী নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে, তাদের সন্ত্রাসী নীতিগুলো অব্যাহত রাখতে এবং তাদের ওপর অর্পিত সন্ত্রাসী প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নিতে খোস্ত, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশের ডুরান্ড লাইনের কাছাকাছি বেসামরিক ঘরবাড়িতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলোতে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী দাবি করছে যে, তারা সন্ত্রাসী আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, এগুলো এমন সব কেন্দ্র যেখান থেকে সেইসব যোদ্ধারা তৎপরতা চালায়, যারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তাদের চৌকিগুলোতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভাড়াটে সৈন্যদের হত্যা করেছে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এগুলো টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) মুজাহিদীনদের ঘাঁটি।

অথচ বাস্তব সত্য হলো, এই হামলায় নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা শহীদ হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। আফগান সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতি বারবার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখিয়েছে। এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ দেখা গেছে মাত্র এক সপ্তাহ আগে, যখন আফগানরা সাম্প্রতিক স্মৃতির মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ একটি ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে।

পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপি-র ঘাঁটি এবং তাদের ধর্মত্যাগী (মুরতাদ) সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কথা বলছে; অথচ বাস্তব চিত্র হলো, গত প্রায় ছয় মাস ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সমস্ত সীমান্ত পথ কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ডুরান্ড লাইনের উভয় পাশে কঠোর নজরদারি জারি রয়েছে।

এ থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান জনবিক্ষোভ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, দেশের ভাড়াটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রদেশের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, সম্মানিত ধর্মীয় আলেমদের শাহাদাত, বিশিষ্ট জনব্যক্তিত্বদের হত্যাকাণ্ড, আইএসআই (ISI)-এর হাতে উপজাতীয় প্রধানদের গুম হওয়া এবং এই ধরনের আরও অসংখ্য দমনপীড়নের কারণে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী প্রশাসনের কর্মকর্তারা আজ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। নিজেদের সংকটের আসল কারণগুলো মোকাবেলা করার পরিবর্তে, তারা এর সমস্ত দায় আফগান সরকারের ওপর চাপাচ্ছে এবং আফগান জনগণের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পথ খুঁজছে।

Exit mobile version