কিছুদিন ধরেই একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে। সহজ ভাষায় প্রশ্নটি হলো, আফগানিস্তানের ইসলামী ইমারত (IEA) হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কিসাস কার্যকর করে এবং মদ্যপানকারী ও অবিবাহিত ব্যভিচারীদের ওপর বেত্রাঘাতের হদ্দ শাস্তি কার্যকর করে। কিন্তু চোরের হাত কর্তনের কিংবা বিবাহিত ব্যভিচারীকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করার কোনো সংবাদ কেন শোনা যায় না? প্রশ্নটি মূলত শরিয়াহকে কেবল শাস্তির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ফলে সৃষ্ট একটি ভুল ধারণার প্রতিফলন।
ইসলামী ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা কেবল শাস্তি কার্যকরের নাম নয়। এটি একটি সুবিচারভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা এবং সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিছু সমালোচক বা যারা বিষয়টিকে কেবল উপরিভাগ থেকে দেখেন, তারা প্রশ্ন করেন, “যদি একটি ইসলামী সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাহলে চুরির জন্য হাত কর্তন কিংবা বিবাহিত ব্যভিচারের জন্য রজমের শাস্তি এত কম দেখা যায় কেন?”
বাস্তবে এই আপত্তির মূল কারণ হলো শরিয়তের প্রকৃতি, ইসলামী বিচারনীতির প্রজ্ঞা এবং হদ্দ শাস্তি কার্যকরের জন্য নির্ধারিত কঠোর শর্তসমূহ সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাব। যে কেউ শরিয়াহকে সঠিকভাবে বুঝতে চাইলে, তাকে প্রথমেই একটি মৌলিক সত্য উপলব্ধি করতে হবে ইসলাম অপরাধ প্রমাণে আগ্রহী নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত হদ্দ শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো বৈধ সুযোগ থাকে, ততক্ষণ তা এড়িয়ে যাওয়াই শরিয়তের নীতি।
ইসলামী ফিকহের সর্বসম্মত নীতিগুলোর একটি হলো, অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে সামান্যতম গ্রহণযোগ্য সন্দেহও যদি বিদ্যমান থাকে, তবে হদ্দ শাস্তি রহিত হয়ে যায়। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) ও অন্যান্য সাহাবি থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«ادْرَءُوا الْحُدُودَ عَنِ الْمُسْلِمِينَ مَا اسْتَطَعْتُمْ، فَإِنْ كَانَ لَهُ مَخْرَجٌ فَخَلُّوا سَبِيلَهُ، فَإِنَّ الإِمَامَ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعَفْوِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعُقُوبَةِ.»
(সুনান আত-তিরমিজি, কিতাবুল হুদুদ, হাদিস: ১৪২৪)
অর্থাৎ—
“তোমরা যতটা সম্ভব মুসলমানদের ওপর হদ্দ শাস্তি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকো। যদি অভিযুক্তের জন্য বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ পাও, তবে তাকে ছেড়ে দাও। কারণ শাসক (বা বিচারক) ক্ষমা করতে গিয়ে ভুল করলে, শাস্তি দিতে গিয়ে ভুল করার চেয়ে তা উত্তম।”
“ক্ষমা করতে গিয়ে ভুল করা, শাস্তি দিতে গিয়ে ভুল করার চেয়ে উত্তম”—ইসলামী বিচারব্যবস্থার এটি অন্যতম মহান নীতি। আধুনিক আইনব্যবস্থাও এই নীতির গভীরতা ও প্রজ্ঞার প্রশংসা করেছে।
এর তাৎপর্য অত্যন্ত স্পষ্ট। যদি প্রকৃত অপরাধী কোনো কারণে শাস্তি এড়িয়ে যায়, তবে নিঃসন্দেহে সেটি বিচারিক একটি ভুল; কিন্তু তার ক্ষতি সীমিত। পক্ষান্তরে, যদি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি অন্যায়ভাবে শাস্তি পায়, তবে সেটি অনেক বড় অবিচার। এতে শুধু একজন মানুষের জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং পুরো বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের বৈধতাও ক্ষুণ্ন হয়।
সমাজের জন্য একজন অপরাধীর শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষতি, একজন নির্দোষ মানুষের রক্ত ঝরানো বা তাকে অন্যায়ভাবে দণ্ডিত করার ক্ষতির তুলনায় অনেক কম।।বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এ কারণে যে, কিছু হদ্দ শাস্তি; যেমন হাত কর্তন বা কিসাসের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড, একবার কার্যকর হয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। যদি কোনো নির্দোষ ব্যক্তির হাত কেটে ফেলা হয় কিংবা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, পরে যদি প্রমাণিত হয় যে আদালতের রায় ভুল ছিল, তাহলে কোনো আদালত তার হাত ফিরিয়ে দিতে পারবে না কিংবা তার জীবন পুনরুদ্ধার করতে পারবে না।
এ কারণেই শরিয়াহ বিচারকদের নির্দেশ দেয়, যেখানে সন্দেহের অবকাশ আছে, সেখানে অভিযুক্তের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। এ নীতিই প্রমাণ করে যে, ইসলামী রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান সংরক্ষণ করা। যখন আদালত নিশ্চিত প্রমাণের পরিবর্তে আবেগ, জনমত বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে রায় দিতে শুরু করে, তখন তা আর উমর আল-ফারুক (রা.)-এর ন্যায়বিচারের প্রতিচ্ছবি থাকে না; বরং তা জুলুমের যন্ত্রে পরিণত হয়। এই কারণেই শরিয়াহ ক্ষমার ক্ষেত্রে ভুলকে শাস্তির ক্ষেত্রে ভুলের তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করে, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি বিচারব্যবস্থার শিকার না হন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজ জীবনে এ নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখিয়েছেন। তাঁর আচরণ থেকে স্পষ্ট হয়, ইসলাম অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার এবং তাওবার সুযোগ দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়; শাস্তি কার্যকরে তাড়াহুড়ো করে না।
মায়িয ইবন মালিক আল-আসলামী (রা.) যখন চারবার এসে ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি দেন, তখন প্রতিবারই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর মুখ ফিরিয়ে নেন। এমনকি তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি উন্মাদ?” এবং ইঙ্গিত দেন, হয়তো শুধু চুম্বন বা আলিঙ্গনের মতো কিছু ঘটেছিল।
এই পুরো ঘটনা শরিয়তের দয়া, প্রজ্ঞা ও ভারসাম্যেরই প্রতিফলন। অপরাধ সূর্যের আলোর মতো সুস্পষ্টভাবে এবং সকল সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হদ্দ শাস্তি কার্যকর করা হয় না।
অনেকেই মনে করেন, এসব শাস্তি কার্যকর করা খুবই সহজ। অথচ ইসলামী ফিকহ চুরির হদ্দ কার্যকর করার জন্য এমন বিস্তারিত ও কঠোর শর্ত নির্ধারণ করেছে, যা বাস্তবে একই সঙ্গে পূরণ হওয়া অত্যন্ত বিরল।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী—
• চুরি হওয়া সম্পদের মূল্য অবশ্যই নির্ধারিত নিসাবে পৌঁছাতে হবে।
• সম্পদটি এমন নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত থাকতে হবে, যা মূলত নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত—যেমন তালাবদ্ধ ঘর, বাড়ি, আলমারি বা অনুরূপ স্থান।
• চোরের ওই সম্পদে কোনো অংশীদারিত্ব, মালিকানার দাবি বা মালিকানাসংক্রান্ত কোনো শরয়ি সংশয় থাকা চলবে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, যদি কেউ ক্ষুধা, চরম অভাব বা কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চুরি করে, তবে ফকিহদের সর্বসম্মত মতে তার ওপর হদ্দ শাস্তি প্রযোজ্য হয় না।
এ কারণেই দুর্ভিক্ষের বছরে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হাত কর্তনের শাস্তি স্থগিত করেছিলেন।
যদি ইসলামী ইমারতের আদালতে হাত কর্তনের রায় খুব কম দেখা যায়, তবে তার প্রধান কারণ হলো বিচারকরা শরিয়তের প্রতিটি শর্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করেন। পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রকৃত অভাব-অনটন এবং সম্ভাব্য শরয়ি সংশয়ও বিবেচনায় নেন।
যখনই হদ্দের সব শর্ত পূরণ হয় না, তখন আদালত হদ্দের পরিবর্তে তাআযীরমূলক শাস্তিকে অগ্রাধিকার দেয়।
হদ্দ ও তাআযীরের এই পার্থক্য ইসলামী বিচারকদের বিস্তৃত বিচারিক এখতিয়ার প্রদান করে। যদি কোনো অপরাধ হদ্দের জন্য নির্ধারিত কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, হোক তা প্রমাণের ঘাটতির কারণে বা কোনো শরয়ি শর্তের অনুপস্থিতিতে, তবুও যদি অভিযুক্তের অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে বিচারক তাআযীরমূলক শাস্তি দিতে পারেন।
অপরাধের প্রকৃতি, অপরাধীর চরিত্র, পরিস্থিতি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ শাস্তি কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, বেত্রাঘাত বা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি হতে পারে। অতএব, হাত কর্তনের সংবাদ কম শোনা যাওয়ার অর্থ এই নয় যে চোরদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বরং এর অর্থ হলো, হদ্দসংক্রান্ত শর্ত ও সংশয় বিবেচনায় ইসলামী ইমারতের বিচারকরা অনেক ক্ষেত্রেই কঠোর তাআযীরমূলক শাস্তি প্রদান করেন, যা অপরাধ দমনে, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
একই সঙ্গে, একটি ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ওপর দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থ মূল্যায়নের দায়িত্বও বর্তায়। ইসলামী ইমারত কয়েক দশকের যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং তাদের সামনে সমাজকে বৌদ্ধিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। একই সময়ে তারা আন্তর্জাতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈরী প্রচারণারও মুখোমুখি।
এমন পরিস্থিতিতে শরিয়াহ ইসলামী সরকারকে এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ পন্থা অবলম্বনের সুযোগ দেয়, যা ফিতনা প্রতিরোধ করে এবং বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রকৃত চেহারা তুলে ধরে। এই কারণেই কিছু কঠোর শাস্তি জনসমাবেশে নয়; বরং আদালত প্রাঙ্গণ বা নির্ধারিত স্থানে কার্যকর করা হয়।
এই পদ্ধতিও ইসলামী প্রজ্ঞার পরিচায়ক এবং দাওয়াতের স্বার্থ রক্ষা করে। এতে বৈরী গণমাধ্যমের জন্য শরিয়তের ন্যায়বিচার বিকৃত করার সুযোগ কমে যায় এবং সমাজও কঠোর শাস্তির প্রকাশ্য দৃশ্য বারবার দেখে অসাড় হয়ে পড়ে না।
বর্তমান যুগের খারেজি গোষ্ঠী, দায়েশ (আইএস)-এর কার্যকলাপের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই চরমপন্থী মানসিকতা। তারা হুদুদসংক্রান্ত কঠোর শরয়ি শর্ত উপেক্ষা করেছে এবং ‘সন্দেহের ক্ষেত্রে হদ্দ রহিত হবে’—এই মৌলিক নীতিকেও অগ্রাহ্য করেছে। ফলে সন্দেহ ও অনুমানের ভিত্তিতে মানুষ হত্যা, শিরশ্ছেদ এবং হাত কর্তনের মতো ভয়াবহ শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলস্বরূপ তারা বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন এটি কেবল শাস্তির ধর্ম। এই চরমপন্থা শরিয়তের অন্তর্নিহিত রহমত, ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞার সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের শক্তি কেড়ে নিয়েছেন এবং তাদের পতন ঘটিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসলামী ইমারতের কিসাস ও অন্যান্য শরয়ি শাস্তি, যেমন বেত্রাঘাত বাস্তবায়নই প্রমাণ করে যে তারা ইসলামী আইন প্রয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।।তবে ইসলামী ইমারত প্রচারণা বা সাময়িক জনপ্রিয়তার জন্য হুদুদকে জনসমক্ষে প্রদর্শনের বিষয় বানায় না। তারা বিচারব্যবস্থার মর্যাদা, শরিয়তের নির্ধারিত কঠোর শর্ত এবং ইসলামী আইনে স্বীকৃত বৃহত্তর জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। এই বাস্তবতা সঠিকভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন।
ইসলামী ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মূল্যায়ন এ দিয়ে করা হয় না যে কতগুলো শাস্তি কার্যকর হয়েছে কিংবা কতটা প্রকাশ্যে তা সম্পন্ন হয়েছে। এর প্রকৃত মানদণ্ড হলো, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান সুরক্ষিত হয়েছে কি না এবং অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে কি না। অতএব, হাত কর্তন বা রজমের সংবাদ কম শোনা যাওয়া ইসলামী ইমারতের দুর্বলতার প্রমাণ নয়, কিংবা এর অর্থ এই নয় যে শরিয়াহ পরিত্যক্ত হয়েছে। বরং এটি সতর্কতা, গভীর বিচারিক অনুসন্ধান এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রতিফলন, যা ইসলামী আইনের মূল চেতনার সঙ্গেই সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুতরাং মুসলমানদের উচিত নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে আরও গভীর, ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপলব্ধি অর্জনের চেষ্টা করা। কেবল আবেগ বা বাহ্যিক দৃশ্যের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শরিয়তের উচ্চতর উদ্দেশ্য, প্রজ্ঞা এবং ন্যায়ভিত্তিক নীতিমালার দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। ইসলাম কেবল শাস্তির ধর্ম নয়; বরং এটি রহমত, ন্যায়বিচার, প্রজ্ঞা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার ধর্ম। শরিয়তের প্রতিটি বিধানই এই মহান উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত হয়েছে।





















