পাকিস্তান—অঞ্চলজুড়ে এবং বিশ্বমঞ্চে দ্রুত অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে!

✍🏻 হাসসান মুজাহিদ

যখন কোনো ব্যক্তি অন্যের অধিকার পদদলিত করে এবং নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যের ক্ষতি করতে কুণ্ঠাবোধ করে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে বন্ধু-বান্ধব হারায়, শত্রু তৈরি করে, নিজের মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করে ফেলে এবং অঞ্চলে ঘৃণার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের সরকারও তার অতীত ও বর্তমান নীতির কারণে ঠিক এমনই তিক্ত পরিণতির সম্মুখীন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

পাকিস্তান তার নিজ দেশের পশতুন ও বেলুচ জনগোষ্ঠীর ওপর এমন নির্মমতা চালিয়েছে যার বিবরণ কলমেও ধারণ করা দুষ্কর। বেলুচদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের শান্ত ও সম্মানজনক জীবনের অধিকার হরণ করা হয়েছে, নিজ মাতৃভূমিতেই নির্বাসন ও হিজরতে বাধ্য করা হয়েছে; অসংখ্য প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিখোঁজ করা হয়েছে বা কারারুদ্ধ করা হয়েছে। পরিণতিতে, বহু বেলুচ নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য অস্ত্রধারণে বাধ্য হয়েছে।

একইভাবে সেই আফগানরাও, যারা কঠোরতম ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে একটি মুসলিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানকে আশ্রয়স্থল করে নিয়েছিল, সেখানে নতুন জীবন শুরু করেছিল, দশকের পর দশক ধরে বিনিয়োগ করেছিল, ব্যবসা-বাণিজ্যকে বিকশিত করেছিল, তারাও পাকিস্তানের সমৃদ্ধিতে নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছিল। তারা এমন অনন্য বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করেছিল যে পাকিস্তানের সরকারি রাজস্বের এক বড় অংশ বহু বছর তাদের শ্রম-আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এবং জাতীয় উন্নয়নেও আফগান মহলের অবদান ছিল অপরিসীম। কিন্তু পাকিস্তান যখন সামান্য কিছুটা স্বস্তি ও স্থিতি অনুভব করল, তখন সেই অসহায় জনসমষ্টির প্রতিই কঠোর আচরণ প্রদর্শন করল, এবং কোনো যৌক্তিক কারণ ব্যতিরেকে তাদেরকে নিজ বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে নি:স্ব অবস্থায় দেশত্যাগে বাধ্য করল।

পাকিস্তানের আরেক গুরুতর অপরাধ হলো, নিজস্ব নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে, যখন কোনো বিরোধীকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়, তখন নির্দোষ নাগরিকদের বন্দী করে ফেলে; এবং বছরের পর বছর তাদের জীবন-মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায় না। এই নীতি জনগণের আস্থা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিকতম এবং সবচেয়ে বেদনাবহ ঘটনা হলো, আফগানিস্তানের সীমান্তে বারবার অনুপ্রবেশ এবং সেখানকার বেসামরিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা। দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত আফগানরা, যারা এখনো বিশ্রামের স্বাদ পায়নি, নির্মমভাবে শহীদ হয়েছে। এই আগ্রাসন এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে যে, পাকিস্তান এখন শুধু আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর কাছেই নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও এক অত্যাচারী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানুষ এখন পাকিস্তানকে বহিরাগত শক্তিগুলোর, বিশেষত আমেরিকার এক হাতিয়ার হিসেবে দেখে; যা পরোক্ষভাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ফলাফল সুস্পষ্ট! যখন আস্থা বিনষ্ট হয়, তখন ঘৃণা ও বৈরিতা জন্ম নেয়। এমনকি কোনো সরকার শক্তিশালী সামরিক ও আইনগত কাঠামো ধারণ করলেও, সে এক মুহূর্তে পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়াতে পারে এবং তার ক্ষমতা ও বৈধতা হারাতে পারে।

এ কথাও উল্লেখযোগ্য যে, আফগান জাতি কখনো আগ্রাসী শক্তির সামনে নীরব দাঁড়িয়ে থাকেনি। তারা সবসময় দৃঢ় ও নির্ভীক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে; কারণ আফগান জনগণের কাছে তাদের ভূমি, জাতীয় মর্যাদা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ অপরিসীম মূল্যবান এবং এগুলোর সুরক্ষা তাদের নিকট জীবন-মৃত্যুর ন্যায় কর্তব্যস্বরূপ।

অতএব পাকিস্তানের উচিত, তার অত্যাচারী নীতি পরিহার করা, নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো নিজেদের সক্ষমতায় সমাধান করা, এবং আফগানিস্তানকে এক সম্মানিত ও ইসলামী প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা।

Exit mobile version