সোমবার, সেপ্টেম্বর 7, 2026
আল মিরসাদ
  • বাড়ি
  • বিবৃতি
  • সংবাদ
  • বিশ্লেষণ এবং লেখা
  • ইসলামিক স্কলার
  • উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের
  • লাইব্রেরি
  • প্রকাশনা
  • ইনফোগ্রাফিক
  • সাবধান
    • عربي
    • EN
    • اردو
    • دري
    • پښتو
No Result
View All Result
  • বাড়ি
  • বিবৃতি
  • সংবাদ
  • বিশ্লেষণ এবং লেখা
  • ইসলামিক স্কলার
  • উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের
  • লাইব্রেরি
  • প্রকাশনা
  • ইনফোগ্রাফিক
  • সাবধান
    • عربي
    • EN
    • اردو
    • دري
    • پښتو
No Result
View All Result
আল মিরসাদ
No Result
View All Result
Home আফগানিস্তান

স্বাধীনতা: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, মক্কা বিজয় ও আফগানিস্তানে ইসলামী ইমারাতের প্রত্যাবর্তন!

✍🏻 আইয়ূব খলীল

স্বাধীনতা: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, মক্কা বিজয় ও আফগানিস্তানে ইসলামী ইমারাতের প্রত্যাবর্তন!
0
SHARES
7
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

স্বাধীনতা মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এটিকে বিভিন্নভাবে বোঝা হয়েছে। কোনো কোনো সভ্যতা স্বাধীনতাকে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের নাম হিসেবে দেখেছে। কেউ একে রাজনৈতিক ক্ষমতার বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। আবার কেউ সামাজিক শৃঙ্খলা ও আইনের কাঠামোর মধ্যে মানবাধিকারের বিষয় হিসেবে স্বাধীনতাকে বিবেচনা করেছে।

ইসলাম মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্নকে আরও গভীর ও ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষ যেমন অন্য কোনো মানুষের দাস নয়, তেমনি নিজের প্রবৃত্তিরও লাগামহীন অধিপতি নয়। ইসলাম মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এবং তাকে মহান আল্লাহর বান্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে পৃথিবীতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জীবনযাপনের জন্য। এ কারণেই ইসলামী স্বাধীনতা তাওহীদ, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার, দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ۖ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ
“দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই হেদায়াত ভ্রষ্টতা থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।”
—সূরা আল-বাকারা: ২৫৬
ঈমান ও ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রে জবরদস্তি প্রত্যাখ্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কুরআনিক ভিত্তি এই আয়াত। স্বভাবগতভাবেই মানুষ জবরদস্তি প্রতিরোধ করে এবং স্বাধীনতার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

ইসলাম স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে তাওহীদ ও ঈমানকে প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ। কিন্তু কার কাছে এবং কেন আত্মসমর্পণ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ইসলামের মূল চেতনাকে স্পষ্ট করে, মানুষের দাসত্ব ও মনগড়া উপাস্যদের দাসত্ব প্রত্যাখ্যান করে এমন এক আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য করা, যার কোনো শরিক নেই।

যখন মানুষ একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব স্বীকার করে, তখন সে অন্য মানুষের অন্যায় দাসত্ব, জুলুম ও অপমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার আধ্যাত্মিক ভিত্তি লাভ করে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে মানুষ যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবে। বরং এর অর্থ হলো মিথ্যার মোকাবিলায় সত্য, বিবেক, নৈতিকতা ও দায়িত্বের কাঠামোর মধ্যে কীভাবে জীবনযাপন করবে, সে বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকা। তাই ইসলাম স্বাধীনতাকে দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে না।

ইসলামী স্বাধীনতার দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমত: অন্যায় জবরদস্তি, জুলুম ও স্বৈরাচার থেকে স্বাধীনতা।
দ্বিতীয়ত: নিজের প্রবৃত্তি, কামনা-বাসনা ও দায়িত্বহীন আবেগের দাসত্ব থেকে স্বাধীনতা।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে জাহেলিয়াতের যুগে আরব সমাজে গোত্রীয় পক্ষপাতিত্ব, দুর্বলদের শোষণ, নারী ও এতিমদের অধিকার লঙ্ঘন, দাসত্বের কঠিন বাস্তবতা এবং ক্ষমতাভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। ইসলাম এসব সমস্যার মোকাবিলা করেছে মানবিক মর্যাদাকে কেন্দ্রে রেখে:
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ
“আর অবশ্যই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।”
—সূরা আল-ইসরা: ৭০
এই নীতির আলোকে মানবিক মর্যাদা শুধু সম্পদ, রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা কোনো বিশেষ গোত্রের অন্তর্ভুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তা মানুষের সত্তার মধ্যেই নিহিত।

প্রথম: মক্কা বিজয়ের শিক্ষা এবং আফগানিস্তানের ইসলামী ইমারাতের সঙ্গে এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দাওয়াতের প্রাথমিক যুগে মুসলিমরা তীব্র নির্যাতন, অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামাজিক নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছিলেন। মক্কার দাওয়াতের মূল বার্তা ছিল মানুষ যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং মিথ্যা উপাস্য ও অন্যায় ক্ষমতার দাসত্ব থেকে নিজেদের মুক্ত করে।

ইসলামের ইতিহাসে এটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। মুসলিমদের শেখানো হয়েছিল, অধিকাংশ মানুষের সমর্থন থাকলেই সত্য সত্য হয়ে যায় না; আবার ক্ষমতা কারও হাতে থাকলেই মিথ্যা সত্যে পরিণত হয় না।

ইসলামের ইতিহাসে কিছু রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনা মুসলিমদের স্মৃতিতে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নেতৃত্বে ৮ হিজরি/৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয় ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী পর, আফগানিস্তানে দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট ইসলামী ইমারাতের বাহিনী কাবুলে প্রবেশ করে এবং দেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

উভয় ঘটনাই দীর্ঘ সংগ্রামের পর সংঘটিত হয়েছিল। উভয়ের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় ও আদর্শিক পরিবেশ, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক কাঠামো এবং সংঘাতের প্রকৃতির মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যও রয়েছে।

মক্কা বিজয় এবং এর পেছনের পরিস্থিতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কার মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান শুরু করেন। মুসলিমরা কঠোর চাপ, নির্যাতন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের সম্মুখীন হন। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরত সংঘটিত হয় এবং মদিনায় একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

৬২৮ খ্রিস্টাব্দে হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদিত হয়। পরবর্তীতে কুরাইশের এক মিত্র মুসলিমদের মিত্র একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে সন্ধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ভারসাম্য ভেঙে যায়। এর পর রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কার দিকে অগ্রসর হন। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজিত হয় এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ নগরীতে প্রবেশ করেন।

মক্কা বিজয়ের অন্যতম প্রসিদ্ধ বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমার পরিবেশ সৃষ্টি করা। সীরাতের বর্ণনায় বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ক্ষমার নীতি এবং রক্তপাত রোধের প্রচেষ্টার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

আফগানিস্তানে ইসলামী ইমারাতের প্রত্যাবর্তনের পটভূমি
আফগানিস্তানে দুর্নীতি ও গৃহযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসলামী ইমারাতের উত্থান ঘটে এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো কাবুলের ক্ষমতা গ্রহণ করে। যদিও ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট আফগানিস্তানে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে ইসলামী ইমারাতকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়, তবুও এর অনুসারী ও বীর আফগান মুজাহিদরা ইসলামী ব্যবস্থা রক্ষার সংগ্রাম পরিত্যাগ করেননি।

তারা আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার মাধ্যমে জিহাদের ফ্রন্টগুলো সচল রাখেন। তারা কখনোই দখলদারদের এই ভূমিতে স্বস্তিতে থাকতে দেননি। ২১ বছরের নিরলস সংগ্রাম ও যুদ্ধের পর কাবুল পুনরায় বিজিত হয় এবং আফগানিস্তানে ইসলামী ব্যবস্থা ক্ষমতায় ফিরে আসে।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে দোহা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর বিদেশি বাহিনীর প্রত্যাহার শুরু হয়। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট, ২৪ আসাদে, ইসলামী ইমারাতের মুজাহিদরা কাবুলে প্রবেশ করেন। আফগান মুসলিম মুজাহিদ জাতির আত্মত্যাগের মাধ্যমে সাবেক পুতুল প্রশাসনের পতন ঘটে এবং ইসলামী ইমারাত পুনরায় আফগানিস্তানের মুসলিম জনগণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
দুটি বিজয়ের অভিন্ন দিক
উভয় বিজয়ের পূর্বেই দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল। মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়েছিল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতপ্রাপ্তির পর ২১ বছরের দাওয়াত ও রাজনৈতিক সংগ্রামের পর। একইভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পদ্ধতি ও পথ অনুসরণ করে আফগানিস্তানে ইসলামী ইমারাত ২১ বছরের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের পর পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে।

এই অর্থে উভয় ঘটনাই দীর্ঘ সংগ্রামের সমাপ্তি এবং একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। উভয় ঘটনাই একটি ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থার ধারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তবে উভয়ের ঐতিহাসিক পরিস্থিতি, বৈধতার ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ক্ষমার বিষয় ও সাধারণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। মক্কা বিজয়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ ক্ষমার নীতি। ২০২১ সালে ইসলামী ইমারাতের আমিরুল মুমিনীনও (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ ও হেফাজত করুন) নববী পদ্ধতি ও সীরাতের আলোকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

এই ঘোষণার উদ্দেশ্য ছিল সাবেক কাবুল প্রশাসনের কর্মী ও বিরোধীদের সাধারণ ক্ষমা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা। এ কারণে উভয় ঘটনা পর্যালোচনা করলে ক্ষমা ও প্রতিশোধ সীমিত করার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য হিসেবে সামনে আসে। তবে উভয় ক্ষেত্রে এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল, সে বিষয়ে ঐতিহাসিক প্রমাণ পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অতএব, যেকোনো ইসলামী ব্যবস্থার জন্য বিজয় বা ক্ষমতা অর্জনের পর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কেবল ক্ষমতায় পৌঁছানো নয়; বরং ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, আমানতদারি ও দায়িত্বের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা কীভাবে পরিচালনা করা হয়, সেটিই মূল পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা এই ব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দান করুন, যাতে ইসলামী ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে নববী পদ্ধতির সঙ্গে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃতিগত পার্থক্য
মক্কা বিজয়ের পটভূমি গড়ে উঠেছিল মক্কা ও মদিনার মধ্যকার রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দাওয়াতি কার্যক্রম, হিজরত, বিভিন্ন চুক্তি এবং কুরাইশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে।
অন্যদিকে আফগানিস্তান বিশ ও একবিংশ শতাব্দীর রাষ্ট্রব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি বাহিনী, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ভূরাজনীতির বাস্তবতার মধ্যে অবস্থান করছিল। তাই উভয় ঘটনাকে নিজ নিজ সময়ের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতির আলোকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

ক্ষমার শিক্ষা
মক্কা বিজয়ের অন্যতম মহান নৈতিক ও রাজনৈতিক শিক্ষা হলো, বিজয়ের পর প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা এবং মানুষের জীবন রক্ষার নীতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।”
—সূরা আন-নাহল: ৯০

বিজয় সমাপ্তি নয়; বরং দায়িত্বের সূচনা
মক্কা বিজয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, এটি কেবল সামরিক বিজয় ছিল না। বরং এর মাধ্যমে ইসলামী সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মানুষের হৃদয়কে একত্রিত করা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার দায়িত্বের সূচনা হয়েছিল।

অনুরূপভাবে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তন কেবল একটি যুদ্ধের সমাপ্তি ছিল না। এর সঙ্গে ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নতুন দায়িত্বও এসেছে অর্থনীতি, শিক্ষা, বিচার, নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব।
দ্বিতীয়: মদিনাতুল মুনাওয়ারা—সামাজিক শৃঙ্খলার মধ্যে স্বাধীনতা
৬২২ খ্রিস্টাব্দে রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনার সমাজে মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য গোষ্ঠী একসঙ্গে বসবাস করত। ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে মদিনার রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ‘সহিফায়ে মদিনা’ বা ‘মদিনার সনদ’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে নগরীতে বসবাসকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক ও যৌথ দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা দেখায় যে ইসলামী সমাজের ধারণা কেবল ব্যক্তিগত অধিকারের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়। সত্য, দায়িত্ব, ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা, সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তৃতীয়: ধর্মের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে নির্বাচন
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ঈমান তখনই প্রকৃত অর্থ লাভ করে, যখন তা মানুষের বিশ্বাস ও স্বাধীন ইচ্ছা থেকে আসে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ
“দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।”
এর অর্থ হলো, কোনো মানুষের অন্তরে জোর করে বিশ্বাস প্রবেশ করানো যায় না। ঈমান হতে হবে বিশ্বাস, উপলব্ধি ও নির্বাচনের ভিত্তিতে। ইসলাম মানুষকে দ্বীনের দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার নির্দেশ দেয়; মানুষের অন্তর পরিবর্তনে জবরদস্তির নির্দেশ দেয় না।

চতুর্থ: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সত্য বলার দায়িত্ব
ইসলাম সত্য কথা বলার মানুষকে মর্যাদা দেয়। তবে বক্তব্যকে নৈতিকতা ও দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে না। ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ
“হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও—যদিও তা তোমাদের নিজেদের, তোমাদের পিতা-মাতা অথবা আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হয়।”
—সূরা আন-নিসা: ১৩৫

এ কারণে ইসলামী সংস্কৃতিতে সত্য বলা আমানতদারি, সততা ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে কেউ ‘স্বাধীনতা’র নামে মিথ্যা, অপবাদ, অপমান কিংবা অন্যের ওপর জুলুমকে বৈধতা দিতে পারবে।
পঞ্চম: ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও স্বাধীনতা
আধুনিক কিছু ধারণায় স্বাধীনতাকে কখনো কখনো ‘আমি যা চাই তা-ই করব’—এই ধারণায় সীমাবদ্ধ করা হয়। ইসলাম এই সংজ্ঞা গ্রহণ করে না। একজন মানুষের স্বাধীনতা যদি অন্য ব্যক্তির অধিকার ধ্বংস করে, তাহলে সেটি আর নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা থাকে না; বরং তা অধিকারের সংঘাতে পরিণত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া, তার সম্মান ক্ষুণ্ন করা কিংবা তার সম্পর্কে মিথ্যা ছড়ানোর কারণ হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যবহার করে, তাহলে তার কথা বলার অধিকার অন্যের অধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

এটি ইসলাম ও আধুনিক স্বাধীনতার ধারণার মধ্যে অন্যতম পার্থক্য। আধুনিক রাজনৈতিক চিন্তায় ব্যক্তিস্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইসলাম এসব ধারণার কিছু উপাদানের সঙ্গে একমত হলেও এর দার্শনিক ভিত্তি ভিন্ন।

ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তায় সাধারণত মানুষের ইচ্ছাকে আইন প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ইসলামী চিন্তায় মানুষের ইচ্ছা ঐশী ওহি, নৈতিকতা এবং শরিয়তের মূলনীতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

 

Tags: #আফগানিস্তান#আলমিরসাদবাংলা
ShareTweet

related-post

পাকিস্তানে আইএসআইএসের টার্গেট হওয়া কিছু জনপ্রিয় ব্যক্তিদের তালিকা আল মিরসাদ কর্তৃক প্রকাশ!
দাঈশ খাওয়ারিজ

পাকিস্তানে আইএসআইএসের টার্গেট হওয়া কিছু জনপ্রিয় ব্যক্তিদের তালিকা আল মিরসাদ কর্তৃক প্রকাশ!

অক্টোবর 10, 2024
আধুনিক খাও য়া রিজ

আগস্ট 24, 2024
আইএসআইএস: উম্মাহর মহানায়ক বীর মুজাহিদগণের দৃষ্টিতে!
দাঈশ

আইএসআইএস: উম্মাহর মহানায়ক বীর মুজাহিদগণের দৃষ্টিতে!

নভেম্বর 16, 2024
যে অশিষ্টতা মাথা উঁচু করে কথা বলে!
রাজনীতি

যে অশিষ্টতা মাথা উঁচু করে কথা বলে!

ডিসেম্বর 17, 2025
জায়নবাদী প্রভাবের ছায়ায় পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থা!
রাজনীতি

জায়নবাদী প্রভাবের ছায়ায় পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থা!

নভেম্বর 1, 2025
ইসলামি ইমারাতের বিরুদ্ধে দাঈশি খারিজিদের প্রোপাগাণ্ডা ও আপত্তিসমূহের শরঈ বিশ্লেষণ | পঞ্চম পর্ব
দাঈশ

ইসলামি ইমারাতের বিরুদ্ধে দাঈশি খারিজিদের প্রোপাগাণ্ডা ও আপত্তিসমূহের শরঈ বিশ্লেষণ | পঞ্চম পর্ব

আগস্ট 9, 2025
ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | দশম পর্ব
ইতিহাস

ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | দশম পর্ব

আগস্ট 29, 2025
খাওয়ারিজদের প্রতিহত করার পদ্ধতি!
ধর্মীয় নিবন্ধ

খাওয়ারিজদের প্রতিহত করার পদ্ধতি!

নভেম্বর 12, 2024
পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থা: নিজের প্রতি অন্ধ, অন্যের ব্যাপারে তীক্ষ্ণদৃষ্টি!
রাজনীতি

পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থা: নিজের প্রতি অন্ধ, অন্যের ব্যাপারে তীক্ষ্ণদৃষ্টি!

জুন 20, 2026

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    • Trending
    • Comments
    • Latest
    উমাইয়াহ, আব্বাসী এবং উসমানী খিলাফতকালে খাওয়ারিজদের অস্তিত্ব

    উমাইয়াহ, আব্বাসী এবং উসমানী খিলাফতকালে খাওয়ারিজদের অস্তিত্ব

    অক্টোবর 28, 2024
    আইএস একটি মহামারীর নাম

    আইএস একটি মহামারীর নাম

    জুলাই 4, 2024
    রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর রাজনৈতিক জীবনের ওপর কারা আমলরত?

    রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর রাজনৈতিক জীবনের ওপর কারা আমলরত?

    সেপ্টেম্বর 2, 2024
    আফগানিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মনিটরিং কমিটি  নাকি এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ঠকানোর মেশিন?

    আফগানিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মনিটরিং কমিটি নাকি এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ঠকানোর মেশিন?

    জুলাই 16, 2024
    মাযলুমদের জন্য রহমত: শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    মাযলুমদের জন্য রহমত: শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    0

    দাঈশ খাওয়ারিজরা গাযযা ও তুফানুল আকসার নামে মানুষদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে

    0
    কলমের কণ্ঠে মুসলিম উম্মাহর করুণ দশার ব্যাপারে কিছু কথা

    কলমের কণ্ঠে মুসলিম উম্মাহর করুণ দশার ব্যাপারে কিছু কথা

    0
    মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় উমার

    মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় উমার

    0
    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    সেপ্টেম্বর 6, 2026
    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সেপ্টেম্বর 6, 2026

    news

    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    সেপ্টেম্বর 6, 2026
    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সেপ্টেম্বর 6, 2026
    • লাইব্রেরি
    আল-মুরসাদ সংযোগ : info@almirsaad.com

    সর্বজনীন অধিকার সকল মুসলমানের জন্য সংরক্ষিত .

    Welcome Back!

    Login to your account below

    Forgotten Password?

    Retrieve your password

    Please enter your username or email address to reset your password.

    Log In

    Add New Playlist

    No Result
    View All Result
    • বাড়ি
    • বিবৃতি
    • সংবাদ
    • বিশ্লেষণ এবং লেখা
    • ইসলামিক স্কলার
    • উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের
    • লাইব্রেরি
    • প্রকাশনা
    • ইনফোগ্রাফিক
    • সাবধান
      • عربي
      • EN
      • اردو
      • دري
      • پښتو

    সর্বজনীন অধিকার সকল মুসলমানের জন্য সংরক্ষিত .