আফগানিস্তানের সুদূর অতীত কিংবা সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমন একটি সময়কালও কেউ দেখাতে পারবে না, যখন আফগানরা অন্য কোনো জাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সূচনা করেছিল। কিন্তু একই সঙ্গে কেউ এটিও প্রমাণ করতে পারবে না যে, কোনো বিদেশি আগ্রাসন কখনো তাদের বশীভূত করতে সফল হয়েছে। সিকান্দার মহান থেকে মঙ্গোল, মুঘল থেকে গুরকানি, এবং ব্রিটিশ থেকে সোভিয়েত ও আমেরিকান—প্রত্যেক আগ্রাসী শক্তিকেই আফগানরা আল্লাহ তাআলার সাহায্যে এমন পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছে যে, তাদের কারও পক্ষেই আর পূর্বের শক্তি নিয়ে পুনরুত্থান সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থা আজ গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। নিজ ভূখণ্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠীকেও তারা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে এবং প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গেই গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়নি। অধিকৃত ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে টিকে থাকা এই ব্যবস্থা এখন নিজের ব্যর্থতার দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে একটি নির্দোষ ও সম্মানিত রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।
তাদের ওপর অর্পিত ভূমিকানুযায়ী অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা বিস্তার, সন্ত্রাসী ও দাঈশি খারিজিদের আশ্রয় ও সমর্থন প্রদান, বৃহৎ অর্থনৈতিক করিডর ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা এবং সর্বোপরি ইসলাম ও মুসলমানদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তারা আবারও আফগানিস্তানের ইসলামী ইমারতকে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করেছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা আলেমদের শাহাদাতবরণে বাধ্য করেছে, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বন্ধ করেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামী ইমারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে, দাঈশি খারিজিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, পতিত প্রজাতান্ত্রিক সরকারের মিলিশিয়া ও ব্যর্থ কর্মকর্তাদের প্রচারণাগত ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে এবং নিজেদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আফগান জনগণের বসতবাড়ি ও জনকল্যাণমূলক অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ করেছে।
ইসলামী ইমারত ইসলামী মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি সমস্যার সমাধান সংলাপের মাধ্যমে করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এর একমাত্র ফল হয়েছে এই যে, পাকিস্তানের ভাড়াটে সামরিক কাঠামো আরও বেশি সাহসী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবশেষে আফগান সরকার সমপর্যায়ের জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অত্যাচারী, স্বৈরশাসক, আগ্রাসী, সন্ত্রাসী ও দখলদারদের মোকাবিলা ও নির্মূল করার এক গৌরবময় ও অকৃত্রিম ইতিহাস আফগানদের রয়েছে।
সম্প্রতি বেলুচিস্তান ও অধিকৃত পশতুনখাওয়ায় ইসলামী ইমারতের দ্রুতগতির অভিযানে বিপুলসংখ্যক দাঈশ সদস্য, মিলিশিয়া এবং আফগানিস্তানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা অন্যান্য উপাদান নির্মূল হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী ইমারতের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, তাদের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বিচার করলে এসব অভিযানকে পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মোকাবিলার ঘোষণারূপে বিবেচনা করা যায়। এখন থেকে ইসলামী ইমারত কেবল প্রতিরক্ষামূলক বা প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে হুমকির জবাব দেবে না; বরং আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে যেকোনো উদীয়মান হুমকিকে তার সূচনালগ্নেই নির্মূল করার চেষ্টা করবে, যাতে তা আফগানিস্তানের জন্য বিপদে পরিণত হওয়ার সুযোগ না পায়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা, আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহ, উপজাতীয় জিরগা এবং মধ্যস্থতাকারীরা এসব আক্রমণাত্মক অভিযানের বিষয়ে নীরব থেকেছে। কারণ ইসলামী ইমারত দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষা করেছে, কিন্তু তাতে কোনো ফল অর্জিত হয়নি। অতএব বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত যেকোনো পরিণতির দায় পাকিস্তানের সামরিক শাসনের ওপরই বর্তাবে, কারণ পরিস্থিতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পূর্ণ দায়িত্ব তাদেরই।




















