সামরিক রেজিমের প্রতিটি নতুন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের অগ্রগতির আশাকেই দুর্বল করে দেয়। এবারও অতীতের ব্যর্থ নীতিগুলো অব্যাহত রেখে তারা প্রভুদের কাছ থেকে আরেকটি নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতির দৃশ্যমান ও আড়ালে থাকা উভয় দিকই পাকিস্তানের নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি সমগ্র অঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থের পরিপন্থী।
পাকিস্তানের নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীগুলোর সরাসরি ক্ষতি করছে যেসব বিষয়, তার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়া, খাদ্যসংকট সৃষ্টি করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ কঠিন করে তোলা। অথচ এসবই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। অন্যদিকে, আঞ্চলিক দেশগুলোর, বিশেষত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষতির কারণ হতে পারে সেই একই বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এর ফলে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও চাপ সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সেখান থেকে শরণার্থীদের ঢল প্রতিবেশী দেশগুলো ও অঞ্চলের অন্যান্য স্থানের দিকে ধাবিত হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। পাখতুনখাওয়া থেকে মানুষ প্রতিবেশী ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে চলে গেলে একদিকে এসব শরণার্থীকে অসংখ্য দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে, অন্যদিকে আশ্রয়দাতা দেশগুলোকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতিতে যেকোনো দেশের জন্যই এটি একটি বড় বোঝা।
এরপর রয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পাকিস্তানি সামরিক রেজিমের জারি করা গভর্নর শাসনের আড়ালে থাকা দিকটি। বাহ্যিকভাবে সামরিক প্রশাসন নিজেদের জনগণ, প্রতিবেশী রাষ্ট্র, আঞ্চলিক দেশগুলো ও বিশ্ববাসীর চোখে ধুলো দিতে চায়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অজুহাত তৈরি করা এবং নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে বিরাজমান অনিরাপত্তা আড়াল করার জন্য তারা এই পদক্ষেপকে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য হলো, এই বিশাল ভূখণ্ড ও এর জনগণকে অনিরাপত্তা ও অভাব-অনটনের আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত রাখা, যাতে নির্বিঘ্নে দাঈশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, আশ্রয় দেওয়া ও রসদ সরবরাহের বৃহৎ লক্ষ্য অর্জন করা যায় এবং তাদের হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলো সফল করা সম্ভব হয়।
পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই এই অঞ্চলের জনগণ পাকিস্তানের ভাড়াটে প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেনি। ওই প্রশাসন বারবার তাদের অধিকার পদদলিত করেছে। আর আজ তাদের ইসলামী ও মানবিক অধিকারগুলো প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ একই দেশের সিন্ধু, করাচি ও পাঞ্জাবে শান্তি, অর্থনীতি, শিক্ষা, পুনর্গঠনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পাখতুনখাওয়ার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।
প্রতিবেশী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সামরিক প্রশাসনের কারণে সৃষ্ট নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে আসছে, যার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই দুষ্টচক্রের প্রভুরা পাকিস্তানি প্রশাসনের হাতে যেসব পরিকল্পনা ও নীতি তুলে দিয়েছে, সেগুলোর আড়ালে থাকা উদ্দেশ্য হলো পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন জারি করা এবং এর সুযোগ নিয়ে দাঈশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, আশ্রয় দেওয়া ও রসদ সরবরাহ করা। এরপর তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোতে পাঠানো।
সর্বোপরি, নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে পাকিস্তানের নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীগুলোরই দায়িত্ব সামরিক রেজিমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। নিজেদের আলেম ও শরয়ি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে তাদের উচিত এই ভাড়াটে সামরিক রেজিম ও এর বলয় থেকে মুক্ত হওয়া। একইভাবে, পাখতুনিস্তানের প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোরও দায়িত্ব হলো, এ ধরনের সন্ত্রাসী পরিস্থিতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। দুষ্টচক্রের পরাশক্তিগুলোর ইশারা, নীতি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী প্রশাসনকে যেন আঞ্চলিক শান্তি ও অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেওয়া না হয়।





















