ইসলামী ভূগোল বিশ্লেষণে তথাকথিত ইসলামী দলগুলোর ভূমিকা!

✍🏻 ​সাঈদ ফাতেহ

মদিনার শাসনব্যবস্থা প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিজের ভিত্তি মজবুত করে নেয়। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ইসলামি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা বিস্তৃত হতে থাকে এবং দলে দলে মানুষ মুসলিমদের কাফেলায় শামিল হতে থাকে। মক্কা ও মদিনার পর প্রতিটি খলিফার শাসনকালে বিশ্বের বড় বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো জয় করা হয়। ইসলামি খেলাফত বিস্তৃত হতে থাকে এবং এই শহরগুলোর মধ্যে এমন কিছু এলাকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা অনেক নবী-রাসূলের (আলাইহিমুস সালাম) যুগে কেন্দ্রীয় গুরুত্বের অধিকারী ছিল, বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ছিল এবং যেখানে পয়গম্বরদের পাঠানো হয়েছিল।

এই প্রতিটি ভূখণ্ড অনেক কঠোর পরিশ্রম ও অগণিত আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। সেই সময়ে সামরিক নেতাদের দূরদর্শিতা, ঈমান এবং মহান রবের সাহায্যই ছিল বিজয়ের মূল কারণ। কখনো কল্পনাও করা হয়নি যে, এই এলাকাগুলো আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং পুনরায় কাফেররা এগুলোর শাসক হয়ে বসবে; আর ইসলামি খেলাফতের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ সত্তা ৫৭টি টুকরোয় বিভক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পারস্পরিক মতবিরোধ, ফাসাদ এবং মুসলমানের ছদ্মবেশে ইসলামবিরোধী শক্তিগুলোই এই শহরগুলোর পতন ও বিভক্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামি ভূখণ্ড আমাদের প্রত্যাশার বিপরীতে ৫৭টি অংশে বিভক্ত হয়ে গেল। শত্রুর মন এখনো শান্ত হয়নি, তারা এটিকে ৮৮টি টুকরোয় ভাগ করতে চায়; অথচ এই মাটির উত্তরাধিকারীরা আজো গাফেলতির ঘুমে বিভোর।

বাইতুল মুকাদ্দাস আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.), দামেস্ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ও আবু উবাইদাহ (রা.), মিশর হযরত আমর ইবনুল আস (রা.), আন্দালুস তারিক বিন জিয়াদ (রহ.), গ্রানাডা আহমদ বিন আল-আহমার (রহ.), ইস্তাম্বুল সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ (রহ.), সমরকন্দ ও বুখারা কুতাইবা বিন মুসলিম (রহ.), বলখ আহনাফ বিন কায়েস (রা.), দিল্লি মুহাম্মাদ ঘুরি, লাহোর সুলতান মাহমুদ গজনভি, কাশগর সাতুক বুগরা খান, মাশহাদ আবদুল্লাহ বিন আমির (রা.) এবং তাবরিজ হুজাইফা বিন ইয়ামান (রা.)-এর বিজয়ের নিদর্শন ছিল, যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলাম। এ ছাড়াও আরও ডজন ডজন শহর ছিল যা আমাদের জন্য জয় করা হয়েছিল এবং প্রতিটি অঞ্চলের ফেরাউনকে সেই সময়ের মুসা (আ.) ধ্বংসের গহ্বরে নিক্ষেপ করেছিলেন।

কিন্তু শত্রু আমাদের মধ্যে ক্ষমতার লোভী ব্যক্তিদের লালন-পালন করেছে, ইসলামের নামে নিজেদের হীন উদ্দেশ্যে তথাকথিত মুসলিমদের গোয়েন্দা হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং তাদের দিয়েই বিভিন্ন গোষ্ঠী গঠন করেছে। পরবর্তী সময়ে তারা প্রতিটি মুসলিম শহরে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছে, যা তাদের ‘বিভক্তি ও দখল’ নীতিতে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

বিভক্তির এই প্রক্রিয়ায় উম্মাহর ভেতর সেই গোষ্ঠীগুলোই বেশি বিপজ্জনক প্রমাণিত হয়েছে যারা সামরিক তৎপরতা, বিদ্রোহ এবং যুদ্ধের সাথে জড়িত ছিল—যেমন আজকের দাঈশ (আইএস)। তারা প্রতিটি মুসলিম শহরের শান্তির পথে এক বিরাট বাধা। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু সব সময় মুসলিম শহর, সাধারণ মুসলিম অথবা মুসলিম সরকারগুলোই হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত তারা ইসলামকে কেবল স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড ইসলামকে দুর্বল করার জন্য এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর পতনের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত।

 

Exit mobile version