বহু বছর ধরে পাকিস্তানের কুখ্যাত সামরিক রেজিমের প্রতিবেশীরা তার দ্বিমুখী নীতি, বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টা এবং আরও বহু ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে আসছে। মনে হয়, এই রেজিমের ভিত্তিই গড়ে উঠেছে হিংসা, ভণ্ডামি এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের ওপর। সারা বিশ্বের মানুষ এই রেজিমের কর্মকাণ্ড ও নীতির ব্যাপারে অবগত। কারণ, তারা সবসময় তাদের বিদেশি প্রভুদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে এবং পবিত্র ইসলাম, ন্যায়নিষ্ঠ আলেম ও ইসলামী মূল্যবোধকে দমন করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে ও নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে।
পাকিস্তানি রেজিম অঞ্চলকে, বিশেষত আফগানিস্তানকে, অস্থিতিশীল করা, বিভেদ সৃষ্টি করা এবং এই অঞ্চলকে পশ্চাৎপদ করে রাখার জন্য শত শত ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে।
এখন আফগানিস্তানে একটি স্বাধীন ইসলামী ব্যবস্থা, ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব এবং এমন একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যকে সুদৃঢ় করেছে। ফলে এই রেজিম আফগান জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি ও কল্যাণ সহ্য করতে পারছে না। ইসলামী ইমারাতের বিজয়ের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত নানা অজুহাত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
এই ব্যবস্থা উৎখাত করার লক্ষ্যে তারা প্রথমে পশ্চিমা ও অন্যান্য কাফির মহলের সহযোগিতায় দায়েশ-খাওয়ারিজ প্রকল্পে পূর্ণ অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও সাহায্যে সেই অশুভ ষড়যন্ত্র ব্যর্থতা ও অনুশোচনায় পর্যবসিত হয়েছে। কারণ কোনো আফগান কখনো খাওয়ারিজদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারা গ্রহণ করেনি, আজও কোনো আফগান তা গ্রহণ করে না।
এখন এই রেজিম যখন নিজেদের পরিকল্পনার পরাজয় ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, তখন তারা অন্য একটি পথ অবলম্বন করেছে। তারা এমন কিছু লোককে ব্যবহার করতে চায়, যাদের ব্যাপারে আফগান জনগণ ইতোমধ্যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কিন্তু তারা এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছে যে আফগানরা এসব দাসকে খুব ভালোভাবে চেনে; তাদের ইতিহাস, কর্মকাণ্ড ও চরিত্র সম্পর্কে তারা অবগত। এসব মানুষের সংঘটিত নিপীড়নের স্মৃতি এখনো এ দেশের মানুষের মনে জীবন্ত। আফগান জনগণ সেই দিনগুলো ভুলে যায়নি, যখন এসব ব্যক্তি নিজেদের প্রভুদের সন্তুষ্ট করার জন্য নিজ দেশের মানুষের ওপর জুলুম ও নিপীড়ন চালাতে কোনো সীমা মানেনি। তাদের পুরো প্রচেষ্টা ও উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের প্রভুদের দাবি, সন্তুষ্টি, অনৈতিকতা ও লালসাপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা।
এখন এই দুষ্ট রেজিম এমন লোকদের ব্যবহার করে এই জাতির নিরাপত্তা ও শান্তি ছিনিয়ে নিতে চায়। কিন্তু তারা যদি মনে করে যে এই পথ তাদের ব্যর্থতা ও ধ্বংস ছাড়া অন্য কোথাও নিয়ে যাবে, তাহলে তারা চরম ভুল করছে।
সাম্প্রতিক কয়েক দশকের বিশ্ব-অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করেছে যে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে এর পরিণতি হয় অত্যন্ত ভারী ও ক্ষতিকর। যখনই সরকার বা অন্য কোনো পক্ষ রাজনৈতিক ও আইনগত সমাধানের পরিবর্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করেছে, তখনই নিরাপত্তাহীনতা, অবিশ্বাস ও অস্থিতিশীলতা বেড়েছে।
রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন করে তোলে এবং সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা দুর্বল হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, এ ধরনের গোষ্ঠীকে সমর্থন শেষ পর্যন্ত তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেই ফিরে আসে।
একই সঙ্গে, জাতিগত গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ, অবিশ্বাস ও সংঘাত বাড়ায়—এমন যেকোনো নীতির সামাজিক পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান যেকোনো সমাজের স্থিতিশীলতার ভিত্তি। আর যেকোনো কর্মকাণ্ড যখন এসব মূল্যবোধকে দুর্বল করে, তখন উন্নয়ন ও নিরাপত্তার পুরো প্রক্রিয়াই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
যদিও এসব দাস ও অশান্তি-অনাচার ছড়ানো গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কখনোই আফগান জাতির সমর্থন পায়নি, বরং আফগান জনগণ সবসময় তাদের ঘৃণা করেছে। পবিত্র ইসলামী ব্যবস্থারও এসব দাস ও ভাড়াটে যোদ্ধাকে কোনো ভয় নেই। তাদের নির্মূল করা তার কাছে নাক থেকে একটি চুল উপড়ে ফেলার মতোই সহজ। বিশ বছরের দখলদারিত্বের সময় এসব ভাড়াটে যোদ্ধার পরীক্ষা হয়ে গেছে। বিশ্বের চল্লিশটিরও বেশি অমুসলিম দেশের পূর্ণ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তারা ইসলামী ইমারাতের মুজাহিদদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। আজও আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও সাহায্যে তাদের পরিণতি হবে দুনিয়া ও আখিরাতে অপমান ও ধ্বংস।
এখনো এই রেজিমের সামনে সুযোগ রয়েছে, তারা তাদের ভুল নীতি ও অশুভ উদ্দেশ্য পরিত্যাগ করতে পারে এবং আফগান জনগণের মর্যাদা ও দৃঢ়সংকল্পকে আর পরীক্ষা করা থেকে বিরত থাকতে পারে। তাদের জন্য উত্তম হবে, তারা আবারও এই জাতির ইতিহাস গভীরভাবে অধ্যয়ন করুক এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক।





















