পাকিস্তান; দাঈশের পুনর্জন্মের ঘাঁটি!

✍🏻 ​হামিদ

আল মিরসাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বারা এলাকায় এগারোজন দাঈশ (আইএস) সদস্যের নিহতের ঘটনা সেই সত্যকে আবারও উন্মোচিত করেছে, যা বিশ্ব সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে জেনেশুনে এড়িয়ে যাচ্ছে: পাকিস্তান কার্যত দাঈশের কেন্দ্রীয় ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে।

এই ঘটনা কেবল কয়েকজন ব্যক্তির নিহত হওয়ার বিষয় নয়, বরং একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়ের প্রতীক। যে দেশ নিজেকে সন্ত্রাসবাদের শিকারি হিসেবে তুলে ধরে, সেই দেশের মাটিতে দাঈশ কীভাবে নিরাপদ আশ্রয়, পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ এবং কার্যক্রম চালানোর উন্মুক্ত পরিবেশ পায়?

পাকিস্তানের উপজাতীয় ও সীমান্ত এলাকায় দাঈশের উপস্থিতি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত অবহেলা, পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বিমুখী নীতির ফলাফল। দাঈশ এমন এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী ব্র্যান্ড, যা যেখানেই পা রাখে, সেখানেই রক্তপাত, ভয় এবং অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়। আজ যদি পাকিস্তান থেকে দায়েশ পুনরায় সংগঠিত হয়, তবে কাল এর আগুন কেবল আঞ্চলিক সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের শান্তিও এই নেটওয়ার্কগুলোর কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আসল প্রশ্ন এটা নয় যে দায়েশ কেন পাকিস্তানে পৌঁছালো; আসল প্রশ্ন হলো পাকিস্তান কেন দায়েশকে অবস্থান তৈরি, পুনর্গঠন এবং বিস্তারের সুযোগ করে দিচ্ছে?

যখন অন্যান্য অঞ্চলে দাঈশের কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়, তখন এই পাকিস্তানি ভূখণ্ডই তাদের জন্য বিকল্প নিরাপদ আশ্রয়ের ভূমিকা পালন করে। এই পরিস্থিতি কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যই গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি নয়, বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও শান্তির জন্যও একটি খোলা চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বকে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, দাঈশকে তখনই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব যখন এর মূল কেন্দ্র, আশ্রয়স্থল এবং সহায়ক পরিবেশকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। যতদিন পাকিস্তান দায়েশের কার্যক্রমের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে থাকবে, ততদিন দাঈশের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক দাবিগুলো কেবল ফাঁপা বুলি ছাড়া আর কিছুই হবে না।

এখন সময় এসেছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কেবল উদ্বেগ প্রকাশের ধাপ থেকে এগিয়ে যাওয়ার। যদি দাঈশকে এভাবেই উপেক্ষা করা হতে থাকে, তবে এটি আবারও একটি বৈশ্বিক হুমকির রূপ নেবে এবং যে রাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, তাকেই এই বিপদের জন্য সরাসরি দায়ী করা হবে। পাকিস্তানের ওপর কার্যকর চাপ, কঠোর নজরদারি এবং স্পষ্ট জবাবদিহিতা ছাড়া দাঈশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না সম্পূর্ণ হতে পারে, না সফল।

এটি বিশ্বের জন্য শেষ সতর্কবার্তা; দাঈশের প্রতি চোখ বন্ধ রাখা কার্যত আগামীকালের নিরাপত্তাহীনতাকে আমন্ত্রণ জানানোর নামান্তর।

Exit mobile version