পাকিস্তানি সামরিক ব্যবস্থা এবং জায়নবাদী কর্মকাণ্ড!

✍🏻 ​আবদুল বাসির উমারি

যেমন ইসরায়েল এবং পাকিস্তান এক সময় একই উদ্দেশ্যে অস্তিত্ব লাভ করেছিল, আজও তারা তাদের অতীতের মতো সেই একই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। মুসলিম হত্যা, ইসলামের বিধান বাধাগ্রস্ত করা এবং গণহত্যা। এই দুই “ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র” মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন অঞ্চলে ক্যান্সারের মতো জন্ম নিয়েছে এবং মুসলিমদের হত্যার জন্য তারা যেকোনো সীমা লঙ্ঘন করতে দ্বিধা করে না।

রমজান শুরুর দুই দিন আগে, ‘ইমারতে ইসলামিয়া’র (আফগানিস্তান) বাহিনী পাকিস্তানের দাজ্জালি ও নিষ্ঠুর শাসনের কয়েকজন সৈন্যকে মুক্তি দিয়েছিল। এর জবাবে, এই অকৃতজ্ঞ ও ইহসান ভুলে যাওয়া শাসনব্যবস্থা জায়নবাদী শাসনের অনুকরণ করে মাঝরাতে সাধারণ জনগণ, নিষ্পাপ শিশু ও নারীদের ওপর হামলা চালায়, পবিত্র কুরআনের কপিগুলো শহীদ করে এবং মাদরাসাগুলো ধ্বংস করে দেয়।

একই সময়ে, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের আরেক ইসলামি দেশ ইরানের ওপর হামলা চালায় এবং সেখানেও মুসলিমদের হত্যার চেষ্টা করে। উভয় ইসরায়েলি ব্যবস্থা মুসলমানদের নিকট পবিত্র মাস রমজানের মর্যাদাকে তোয়াক্কা করেনি, এমনকি শিশু ও নিরপরাধ মানুষের প্রাণের পরোয়াও করেনি। ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা যারা নিজেদের ইহুদি মনে করে তারা ইরানে হামলা করেছে, আর সামরিক শাসন যারা নিজেদের মুসলিম দাবি করে তারা সেই ইহুদিদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাদের চেয়েও ভয়াবহ এবং নির্বিচার বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

এখন যখন ঈদ ঘনিয়ে আসছে, এই রক্তপিপাসু শাসনব্যবস্থা আবারও ইসরায়েলি শাসনের অনুসরণ করছে। যেমন ইসরায়েল প্রতি বছর ঈদের সময় মসজিদুল আকসায় মুসলিমদের শহীদ করে, গাযযায় হাসপাতালে হামলা চালায় এবং সারাবিশ্বের মুমিনদের ঈদকে শোকে পরিণত করে; ঠিক তেমনি এই পশুর মতো সেনাবাহিনী এবং তাদের যালেম শাসকরা কাবুলের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র বা হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং শত শত নিরীহ রোগীকে শহীদ ও জখম করেছে।

ইসরায়েল যখন গাযযার কোনো বড় হাসপাতাল যেমন আল-নাসের, আশ-শিফা বা শুহাদা আল-আকসা হাসপাতালে হামলা করে, তখন সাথে সাথে মিডিয়া দাবি করে যে হাসপাতালের নিচে হামাস যোদ্ধারা ছিল—এমন অনেক অজুহাত তারা দেয়। কিন্তু ইসরায়েল কখনও এই মিথ্যা বলেনি যে “আমরা হাসপাতালে হামলা করিনি”। এই ইসরায়েলের বিপরীতে পূর্ব-ইসরায়েল (পাকিস্তান) যখন হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করল, তখন সমস্ত সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠান রোগী, আহত এবং শহীদদের ছবি ও দৃশ্য দেখিয়েছে। পুরো পৃথিবী দেখেছে যে সেখানে রোগীরা, যারা তখনও সুস্থ হননি, তাদের আগুন ও রক্তে তড়পাতে বাধ্য করা হয়েছে। এই বোমাবর্ষণের পর পাকিস্তানি সামরিক শাসনের নির্লজ্জ মুখপাত্ররা বলছেন যে, “আমরা কাবুলে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছি।”

এই সমস্ত যুলুম একথাই প্রমাণ করে যে পাকিস্তান এবং ইসরায়েলের অস্তিত্ব একই উদ্দেশ্যে, মুসলিম হত্যা এবং ইসলামের বিধান রুদ্ধ করা। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসনের জেনে রাখা উচিত যে, আফগানরা তাদের রক্ত এবং শহীদদের প্রতিশোধের ক্ষেত্রে কাউকে ক্ষমা করেনি। যে কেউ কাবুলের শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা এবং গর্বের দিকে কুনজরে তাকিয়েছে এবং এই পবিত্র ভূমিতে নিজের নাপাক কদম রেখেছে, আমরা এমন পশুদের রক্তে স্নান করিয়েছি, তাদের মায়েদের কাঁদিয়েছি এবং তাদের পিতাদের নিরুপায় করেছি। ঈমানের নূরে আলোকিত কাবুলের অপমানের প্রতিশোধ আমরা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছি।

এরা সেই সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহর বংশধর যারা কনস্টান্টিনোপলের দেয়ালে ক্রুসেডারদের মাংস ও পাথর নিক্ষেপ করেছিল। এরা সেই গজনভি সুলতানের সন্তান যারা সিন্ধু, পাঞ্জাব এবং হিন্দুস্তানে আক্রমণকারীদের বুক তীরের আঘাতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল এবং তাদের মাথা বল্লমের ডগায় বিঁধিয়ে সোমনাথের মন্দিরে নিয়ে গিয়ে সেই মাথা দিয়েই সোমনাথকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছিল। এই প্রজন্ম সেই পূর্বপুরুষদের দ্বারা প্রশিক্ষিত, যারা দুটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী বাহিনীর রক্ত মেওয়ান্দের মরুভূমিতে প্রবাহিত করেছে। সেই রক্ত দিয়েই গাজীদের বাগান সেচ করা হয়েছে, শত্রুকে নাস্তানাবুদ করা হয়েছে, হাজার হাজার লাল ফৌজকে তলোয়ারের নিচে পিষ্ট করা হয়েছে এবং এই ভূমিকে তাদের অস্তিত্ব থেকে পাক-পবিত্র করা হয়েছে।

এরা মোল্লা সাহেবের (মোল্লা মুহাম্মাদ উমর মুজাহিদ রহ.) হাতে গড়া সৈনিক যারা আমেরিকার মতো দাম্ভিক শক্তিকে চরম সামরিক ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি উপহার দিয়েছে, তাদের হাত-পা কেটে ফেলেছে এবং তাদের স্বাদ ও ঘ্রাণ নেওয়ার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে ছেড়েছে।

তারা এই সব কিছু করেছে খালি হাতে এবং সামান্য সরঞ্জামের মাধ্যমে, যখন আপনাদের প্রভুদের এই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশ্বাস রাখুন! আপনারাও আপনাদের প্রভুদের মতো একই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির শিকার হবেন। শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ হবে ভয়াবহ, এই ইসলামি ভূখণ্ডের মানচিত্র আরও প্রশস্ত হবে, ইসলাম ধর্মকে শক্তভাবে রক্ষা করা হবে। আর শেখ সাহেবের (আমিরুল মুমিনীন) বরকতময় লশকরদের সামনে কোনো সেকুলার বা লর্ড মেকলের শিক্ষিত চেলা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, এর ফলে মযলুম জাতিগুলো তোমাদের যুলুম ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাবে।

Exit mobile version