আমেরিকার নতুন পরিকল্পনা এবং অঞ্চলে তা বাস্তবায়নে একটি বিশেষ মহলের অপতৎপরতা! ​

✍🏻 সাইফুদ্দিন উজিরওয়াল

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন দখলদার বাহিনীর ব্যর্থতার পর, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সামরিক উপস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য পায়নি, তাই এখন তারা সরাসরি সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে রাজনৈতিক এবং গোয়েন্দা (ইন্টেলিজেন্স) প্রভাব জোরদার করার চেষ্টা করছে। এই ধারায় অঞ্চলটিকে অস্থির করার জন্য তারা একটি নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা শুরু করেছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রজেক্টটি পাকিস্তানের সামরিক রেজিমের একটি বিশেষ মহলের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং হামলাগুলো টিটিপি (TTP)-র কারণে নয়; কারণ টিটিপি নিজের ভূখণ্ডে সক্রিয় এবং তারা তাদের ন্যায্য অধিকার দাবি করছে। বরং এই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও হামলাগুলো আসলে আমেরিকার সেই নতুন মিশনের অংশ, যা পাকিস্তানের সামরিক রেজিমের নির্দিষ্ট মহলের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করা এবং সেই লক্ষ্যগুলো অর্জন করা যা আমেরিকা তার সামরিক অভিযানের সময় অর্জন করতে পারেনি। এখন তারা চায় এই লক্ষ্যগুলো গোপন গোয়েন্দা উপস্থিতির মাধ্যমে ওই বিশেষ মহলের সহায়তায় হাসিল করতে।

এই প্রেক্ষাপটে, মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক প্রধান আসিম মুনির প্রায় তিনবার ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ ও পরামর্শের জন্য আমেরিকা সফর করেছেন। একইভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে আমেরিকা গিয়েছেন এবং এই পরিকল্পনা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পাকিস্তানি মিডিয়ার কিছু সূত্রের মতে, পাকিস্তান আফগানিস্তানে তাদের অবৈধ হামলা তখনই শুরু করেছিল যখন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশের অপেক্ষায় করজোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ট্রাম্প পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশংসা করছিলেন যে, তারা তাদের মিশন সঠিকভাবে পালন করছে এবং বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই নির্দিষ্ট মহলের ভুল নীতি এবং আগ্রাসী আচরণের ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষও হয়েছে। তা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের ইসলামি বাহিনী তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় নিজেদের পবিত্র লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক রেজিমের এই নির্দিষ্ট মহলটি আমেরিকার মিশনকে এগিয়ে নিচ্ছে এবং নিজেদের জনগণকে আমেরিকার স্বার্থে বিসর্জন দিচ্ছে।

এমন রিপোর্টও পাওয়া গেছে যে, ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক সফরের সময় যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি দল আসে, তখন আসিম মুনির তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় সহায়তা করবেন। এমনকি প্রয়োজন পড়লে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে তুলে দেবেন।

Exit mobile version