দাঈশি খারিজীদের মিথ্যা দাবি এবং নিরপরাধ নাগরিকদের শাহাদাত! ​

✍🏻 আবদান সাফী

গত পরশু কাবুলের শহরনো এলাকায় একটি হোটেলে আত্মঘাতী হামলা সংঘটিত হয়, যাতে এক চীনা নাগরিক ও ছয়জন নির্দোষ আফগান নাগরিক শাহাদাতবরণ করেন। পরবর্তীতে এই হামলার দায় স্বীকার করে সমকালীন খারিজী গোষ্ঠী দাঈশ খোরাসান।

দাঈশ খোরাসান কর্তৃক দায় স্বীকারের পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা এই গোষ্ঠীর দাবিসমূহ ও তাদের বাস্তব কার্যকলাপের মধ্যকার গভীর বৈপরীত্যকে আরও উন্মোচিত করে। এই জঘন্য অপরাধটি আরও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তাদের তথাকথিত খিলাফতের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, যার কোনো বাস্তব বা শরয়ি অস্তিত্ব নেই।

এই খারিজীরা যখন ইরাক ও সিরিয়া তাদের তৎপরতা শুরু করে এবং পরবর্তীতে তা আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত করে, তখন তারা মুসলিমদের, বিশেষত মুজাহিদদের নির্মমভাবে হত্যা করত কেবল এই অজুহাতে যে, তাদের দাবি অনুযায়ী ইতোমধ্যেই খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তারা সমস্ত মুসলিমকে তাদের নামসর্বস্ব খিলাফতের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করতে বাধ্য করত, আর যে কেউ তা করতে অস্বীকার করত, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।

তারা এই দাবিও করত যে, তারা এমন এক ব্যবস্থা কায়েম করেছে, যা বিশ্বের সকল মুসলিমকে একটি ছাতার নিচে একত্র করবে—তারা যে দেশ বা অঞ্চলেরই হোক না কেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যেক মুসলিমই তাদের তথাকথিত খিলাফতের নাগরিক; কারণ তাদের ভাষ্যমতে, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের কল্যাণ ও ঐক্য সাধন।

কিন্তু আজ যদি সেই একই মানদণ্ডে এই খারিজিদের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করা হয়, তবে তা তাদের সকল দাবির প্রকাশ্য অস্বীকৃতিতে পরিণত হয়। কারণ গতকাল এই একই গোষ্ঠী চীনা মুসলিমদের একটি হোটেলে হামলা চালিয়েছে কেবল এই কারণে যে, তারা চীনা নাগরিক ছিল, অথচ তারা মুসলিম ছিল এবং সেই সিনকিয়াং অঞ্চলের বাসিন্দা ছিল, যার মুসলিমদের নিপীড়নের কথা এই লোকেরাই বারবার উচ্চারণ করে থাকে।

প্রশ্ন হলো, কোনো মুসলিমকে হত্যা করার বৈধতা কি কেবল এ কারণে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে যে, তার নাগরিকত্ব এমন একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার সঙ্গে আপনার যুদ্ধাবস্থা রয়েছে? আরও প্রশ্ন হলো, কোনো মুসলিম অন্য একটি মুসলিম দেশে ব্যবসা করার অজুহাতে কি তাকে হত্যা করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে?

খিলাফত ও ইসলামী সামষ্টিকতার ধারণা কি আদৌ এই অনুমোদন দেয় যে, একজন চীনা মুসলিম নাগরিকের কাবুলে অবস্থানকে হারাম ঘোষণা করা হবে, এবং এই তথাকথিত ‘অপরাধ’-এর ভিত্তিতে তার হত্যাকে জায়েয সাব্যস্ত করা হবে?

আপনারা কতগুলো নিরপরাধ মুসলিমকে হত্যা করেছেন যারা কেবল হোটেলের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল, কিংবা খাবার গ্রহণের উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করেছিল। তারা কোন দেশের নাগরিক বা কোন ভৌগোলিক অঞ্চলের বাসিন্দা তা আদৌ কোনো গুরুত্ব বহন করে না; তারা মুসলিম ছিল, এবং তাদের পরিচয় নির্ধারিত হয়েছিল দ্বীনের ভিত্তিতে, কোনো রাষ্ট্র বা জাতিসত্তার ভিত্তিতে নয়।

দ্বিতীয়ত, আপনাদের এই নৃশংস কার্যকলাপ আরও একটি সত্যকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে—আপনারা কোনো আদর্শিক, ধর্মীয় বা জিহাদি সংগঠন নন; বরং আপনারা বিশ্বের কয়েকটি রাষ্ট্রের গোপন গোয়েন্দা সংস্থার স্বার্থে পরিচালিত একটি প্রক্সি গোষ্ঠী। আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ সেই স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যেই গৃহীত হয়, এবং আপনার সকল অভিযান তাদেরই নীতিমালার অধীন পরিচালিত হয়; যখন, যেখানে এবং যেভাবে তারা নির্দেশ দেয়, আপনারা সেভাবেই কাজ করেন।

আজ আপনার প্রকৃত পরিচয় ও অবস্থান সম্পূর্ণরূপে উন্মোচিত হয়ে গেছে। আপনারা কেবল ভাড়াটে ঘাতক যারা অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধ করে, এবং নিজেদের দুর্বলতা ও পরাজয়ের অনুভূতি আড়াল করার জন্য প্রতিটি নিরপরাধ মুসলিমের হত্যায় প্রস্তুত হয়ে ওঠে।

Exit mobile version