পাকিস্তানি সামরিক শাসন প্রতিটি অতিবাহিত দিনের সাথে সত্যের এক নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি হচ্ছে এবং তাদের গোপন ও সন্ত্রাসবাদ-বান্ধব নীতির বিভিন্ন চেহারা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। এই দেশের সামরিক স্বৈরাচারী ব্যবস্থা নিজের অস্তিত্ব রক্ষা, জেনারেলদের ক্ষমতা ও শক্তি সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সর্বদা তাদের সৈন্যদের বিশ্ব সামরিক ও গোয়েন্দা শক্তিগুলোর কাছে ভাড়া দিয়ে এসেছে। তারা মজলুম জনগণের জাতীয় বাজেট শাসকগোষ্ঠী এবং একটি নির্দিষ্ট দলের সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবসা প্রসারে ব্যয় করেছে, অথবা নিজেদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং প্রক্সি যুদ্ধের অর্থায়নে নির্দ্বিধায় ব্যবহার করেছে।
এই প্রক্সি এবং খারিজি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি হলো দাঈশ খোরাসান। অতীতের মতো এখনো আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর পরামর্শে এতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে একে এই অঞ্চলে এবং বিশ্বে অস্থিরতা ছড়ানোর জন্য একটি কার্যকর ও ভয়ানক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে বাহ্যিকভাবে এসব কথা অস্বীকার করা হয় এবং বিশ্বকে এই ধারণা দেওয়া হয় যে পাকিস্তান নিজেই সন্ত্রাসবাদের শিকার।
আফগানিস্তানে ইসলামি ইমারত পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দায়েশি খারিজিদের তৎপরতা শুধু শূন্যের কোঠায় নেমে আসেনি, বরং তাদের অনেক সদস্য দেশের বাইরে পাকিস্তানের মাটিতেও নিহত হয়েছে, যার রিপোর্ট খোদ পাকিস্তানি মিডিয়া প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন নিরাপদ এবং সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় দাঈশি খারিজি নেতাদের, বিশেষ করে তাদের মুখপাত্র সুলতান আযিয আযযামের গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে দায়েশ আগেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি হাতিয়ার ছিল এবং এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। অবশ্য কেবল সেই সদস্যদেরই উন্মোচিত ও গ্রেফতার করা হয় যারা সেনাবাহিনীর কমান্ড এবং পরিকল্পনা লঙ্ঘন করে।
এই সূত্র ধরে খোদ দাঈশের ভেতরেও গভীর মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক সদস্য পারস্পরিক দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় ওড়কজাই এলাকার ঘলজি, তোরকানি এবং নারিকে দায়েশিদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে, যার ফলে তাদের দুই গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার হাজি আবদুর রহমান ওরফে আবু নাসির এবং মোল্লা ফারুকি নিহত হয়েছে।
এই দুই খারিজি নেতা দাঈশি বলয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল নেতা হিসেবে বিবেচিত হতেন। তারা আফগান ভূমিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও দাঈশের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং সরকারি স্থাপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত, ইসলামি ইমারতের নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও দৃঢ় সংকল্পের কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং নিজেদের কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে। এটি পাকিস্তানে দাঈশি খারিজিদের আস্তানা এবং তাদের সদস্যদের নিহতের প্রথম ঘটনা নয়, বরং এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে ড্রোনের মাধ্যমে বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের হত্যা করা হয়েছে। এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো তিরাহ-এর তোরা দরায় তাদের একটি দলের নির্মূল হওয়া, যার ভিডিও আল মিরসাদ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থা প্রকাশ করেছে।
যদি সামরিক শাসন মনে করে যে আফগান ভূমিতে বিমান হামলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার মাধ্যমে তারা ইসলামি ইমারতের নীতি ও সামরিক শক্তির মোড় ঘুরিয়ে দেবে এবং পাকিস্তানি সামরিক শাসনের ছত্রছায়ায় থাকা দাঈশি খারিজিরা বিশ্বের নজর থেকে আড়ালে থাকবে, তবে এটি তাদের ভুল ধারণা। কারণ ইসলামি ইমারত তার প্রধান শত্রুদের কখনোই ভুলে যায় না। দায়েশি খারিজিরা শুধু আফগান ভূমি ও মুসলিম জনগণের হত্যাকারীই নয়, বরং তারা ইসলামি শরীয়তের বিরুদ্ধে এক সমকালীন ফেতনা, যাদের আমেরিকা, ইয়াহুদি এবং সামরিক শাসনের মতো উপাদানগুলো তাদের ভাড়াটে খুনি হিসেবে লালন-পালন করছে। অথচ ইসলামি ইমারত প্রতিষ্ঠার দর্শনই হলো প্রকৃত ইসলাম, শরীয়তি ব্যবস্থা এবং পবিত্র মূল্যবোধকে জান ও মালের বিনিময়ে রক্ষা করা।
ইসলামি ইমারতের বাহিনী ন্যাটোর ডজন ডজন দেশ, আমেরিকা এবং কাবুল শাসনের পুতুল সেনাবাহিনীর কঠোর ও তীব্র অভিযানের সময়ও দায়েশের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ত্যাগ করেনি, বরং প্রতিটি মোর্চায় এই ফেতনার বিরুদ্ধেও একযোগে লড়াই করেছে এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই খারিজি ফেতনাকে উপেক্ষা করার কোনো সম্ভাবনাই নেই; বরং চেষ্টা হলো ভবিষ্যতে এই ভাড়াটে খুনিদের তাদের প্রভুদের কোল এবং আশ্রয়স্থলেই নির্মূল করা, যার প্রমাণ পূর্বের সাফল্য ও উদাহরণগুলো দেয়।
পাকিস্তান এবং দাঈশের অন্যান্য সমর্থকদের বুঝে নেওয়া উচিত যে আফগানিস্তান এখন আর অন্যদের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামরিক প্রকল্পের প্রক্সি ময়দান নয়। এখানে এখন পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আফগান নিরাপত্তা বাহিনী যে কোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়। এর স্পষ্ট উদাহরণ হলো পাকিস্তানি সামরিক শাসনের আগ্রাসনের জবাবে করা স্থল ও আকাশপথের প্রতিশোধমূলক হামলা, যা পুরো সামরিক শাসনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে এটিও মনে রাখা উচিত যে আফগান জনগণ পাকিস্তানের মুসলিম জনগণের প্রতি সম্মান কখনো ভুলে না এবং তারা মনে করে যে বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানের বাসিন্দারা নিজেরাও মযলুম।
যেভাবে পাকিস্তানের সামরিক শাসন আফগান ভূমিতে নির্বিচারে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে নাগরিকদের শহীদ করে, একইভাবে তারা নিজেদের ভূখণ্ডেও জনগণকে হত্যা ও হিজরত করতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এই সত্য মেনে নিতে হবে যে জালিম এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থা চিরকাল টিকে থাকে না। যুলুমের অট্টালিকা একদিন অবশ্যই ভেঙে পড়বে, আর সেই দিন সামরিক শাসনের জন্যও আসতে চলেছে, বরং তা অত্যন্ত নিকটে।
