সোমবার, সেপ্টেম্বর 7, 2026
আল মিরসাদ
  • বাড়ি
  • বিবৃতি
  • সংবাদ
  • বিশ্লেষণ এবং লেখা
  • ইসলামিক স্কলার
  • উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের
  • লাইব্রেরি
  • প্রকাশনা
  • ইনফোগ্রাফিক
  • সাবধান
    • عربي
    • EN
    • اردو
    • دري
    • پښتو
No Result
View All Result
  • বাড়ি
  • বিবৃতি
  • সংবাদ
  • বিশ্লেষণ এবং লেখা
  • ইসলামিক স্কলার
  • উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের
  • লাইব্রেরি
  • প্রকাশনা
  • ইনফোগ্রাফিক
  • সাবধান
    • عربي
    • EN
    • اردو
    • دري
    • پښتو
No Result
View All Result
আল মিরসাদ
No Result
View All Result
Home ব্লগ

পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

✍🏻 আবদুল্লাহ আতিফ | স্নাতক, জামিয়া ফারুকিয়া করাচি

পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!
0
SHARES
1
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

بسم الله الرحمن الرحیم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله!

বলা হয়ে থাকে, ইরানি বিপ্লবের সফলতার অন্যতম রহস্য ছিল তাদের চিন্তার ঐক্য। সবাই একই চিন্তা ও একই আদর্শকে ধারণ করেছিল, আর এ কারণেই তারা সফল হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন চিন্তার ঐক্য ছিল না, অন্যদিকে ভারত বিভক্তির পর ক্ষমতাও চলে গিয়েছিল বিদেশিদের হাতে। আর এ কারণেই আজ পর্যন্ত আমরা দেশে শরিয়াহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে অনেকে আলোচনা করেছেন। তবে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে আমার দৃষ্টিভঙ্গির কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমার নিজস্ব উপলব্ধিটিও পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এখানে শুধু এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে না যে পাকিস্তানে আজ পর্যন্ত শরিয়াহ কেন বাস্তবায়িত হলো না। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে আছে। বর্তমান আইনব্যবস্থা, সেটি সংশোধনের জন্য গণতান্ত্রিক পথ বেছে নেওয়া, দেশে শরিয়াহ বাস্তবায়নের আন্দোলন কেবল অহিংস ও শান্তিপূর্ণ উপায়েই পরিচালিত হতে হবে এমন ধারণা এবং এ ধরনের আরও কিছু প্রশ্ন।

তবে আপাতত আমরা শুধু সেই মৌলিক কারণগুলো নিয়েই আলোচনা করব, যেগুলোর কারণে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানে শরিয়াহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

প্রথম কারণ

লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব

বলা হয়, ইরানের সফলতার একটি কারণ ছিল সেখানে সবাই একই চিন্তা ধারণ করত। আর আমাদের আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন মতের মানুষ যুক্ত ছিল বলেই এখানে চিন্তার ঐক্য গড়ে ওঠেনি। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে সমস্যাটা আরও মৌলিক। এখানে প্রথম থেকেই কেউ লক্ষ্যটাকেই সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি।

বিষয়টি একটু খেয়াল করে দেখুন। ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে, যে সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, হিন্দু ও মুসলমান পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন এবং হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সরকার প্রতিষ্ঠা। সেখানে ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা তাদের মূল লক্ষ্য ছিল না।

শায়খুল হিন্দ রহ.-এর আন্দোলনের লক্ষ্যও ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছিল না। তাঁর আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি। এ কারণেই হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল। উভয়ের সামনে ছিল একটি অভিন্ন লক্ষ্য, ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জন।

কিন্তু ভারত বিভক্তির সময় মুসলমানদের মনে এমন ধারণা তৈরি করা হলো যে তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে, এর বেশি কিছু নয়। তখন ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতার চেয়ে হিন্দুদের কাছ থেকে আলাদা হওয়া ও তাদের থেকে মুক্তির ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলো। অথচ এই হিন্দুরাই এর আগে আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল।

এবার ব্রিটিশরা তাদের সেই পুরোনো নীতি অনুসরণ করল, বিভক্ত করো এবং শাসন করো। দুই জাতির সম্মিলিত শক্তিকে তারা ভেঙে দিল। এরপর নিজেদের পরিকল্পনা ও স্বার্থ অনুযায়ী তাদের ওপর শাসন চালিয়ে যেতে থাকল।

ভারত বিভক্তির সময় মুসলমানদের বলা হলো, আমাদের একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন। এর পাশাপাশি অল্প কয়েকটি অস্পষ্ট কথায় এটাও বলা হলো যে নতুন রাষ্ট্রের সংবিধান হবে কুরআন ও হাদিস।

মানুষ যখন এসব কথা শুনল এবং আন্দোলনের মধ্যে ইসলামের কিছু নিদর্শন দেখতে পেল, তখন তারা নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করতে শুরু করল। কিন্তু পর্দার আড়ালে কায়েদে আজমসহ বেশ কয়েকজন নেতা ব্রিটিশ পরিকল্পনার অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অধীনে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছিল। কারণ ভারত বিভক্তি মূলত ব্রিটিশদের চিন্তা ও কৌশলেরই ফসল ছিল এবং আমাদের নেতারাও সেই কৌশল বাস্তবায়নের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

যখন হিন্দুদের সঙ্গে আমাদের এমন কোনো মৌলিক বিরোধ ছিল না, তাহলে আলাদা রাষ্ট্রের চিন্তা কেন এলো? আমরা কেন আমাদের মূল লক্ষ্যটিই ভুলে গেলাম, অর্থাৎ সবাই মিলে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করার লক্ষ্য?

যদি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যও ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন হয়ে থাকে, তাহলে ভারত বিভক্তির পর নিজেদের সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে একজন ইংরেজকে নিয়োগ দেওয়া হলো কেন?

ব্রিটিশদের অত্যাচারে আমরা যদি সত্যিই অতিষ্ঠ হয়ে থাকি, তাহলে তাদেরই প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর হাতে নিজেদের তুলে দিলাম কেন? যে সেনাবাহিনী দিয়ে ব্রিটিশরা নিজেদের যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, এমনকি উসমানি খেলাফত ধ্বংসের ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ ও তাদের প্রশিক্ষিত বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তাহলে শেষ পর্যন্ত এই ব্রিটিশ-অনুগত সেনাবাহিনীর হাতেই ক্ষমতা তুলে দেওয়ার কারণ কী ছিল? শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক করা হলো একজন ইংরেজকে এবং পুরো সেনাবাহিনীকে তার তত্ত্বাবধানেই রাখা হলো।

আমরা কি এই ইংরেজদের হাতেই অতিষ্ঠ ছিলাম না? এই ইংরেজরাই কি আমাদের হত্যাকারী ছিল না? এই ইংরেজদের বিরুদ্ধেই কি হিন্দু ও মুসলমান একসঙ্গে যুদ্ধ করেনি? তাহলে সেই ইংরেজই কীভাবে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে গেল? যে ইংরেজ আমাদের বিরুদ্ধে এত কিছু করেছে, তাকেই আমরা কীভাবে নিজেদের কল্যাণকামী হিসেবে মেনে নিলাম?

এমন শত শত প্রশ্ন রয়েছে, যার উত্তর একটিই হতে পারে। এই বিভক্তি ছিল মূলত ব্রিটিশদের প্রয়োজন।

মুসলমানদের সামনে এই বিভক্তির উদ্দেশ্য এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছিল যেন তাদের একটি আলাদা রাষ্ট্র দেওয়া হবে এবং সেই রাষ্ট্রের সংবিধান হবে কুরআন ও হাদিস। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ব্রিটিশরা এর মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের সম্মিলিত শক্তিকে ভেঙে দিতে চেয়েছিল। কারণ হিন্দু ও মুসলমানের যৌথ প্রতিরোধ ব্রিটিশদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছিল এবং দুই জাতির ঐক্যের মধ্যেই তারা নিজেদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে দেখেছিল।

সত্য কথা হলো, ভারত বিভক্তি ছিল ব্রিটিশদের প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তারা উপমহাদেশের সম্মিলিত শক্তিকে দুর্বল করে দিল। দুই জাতির মধ্যে এমন একটি বিদ্বেষের দেয়াল তুলে দেওয়া হলো, যার প্রকৃত বাস্তবতা আমরা আজও বুঝে উঠতে পারিনি।

যখন বাস্তবতা হলো, এই বিভক্তির মাধ্যমে আমাদের বোকা বানানো হয়েছিল এবং পুরো বিভক্তির প্রক্রিয়াই আমাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে ছিল না, তখন আমরা কীভাবে এবং কার কাছে শরিয়াহ বাস্তবায়নের দাবি জানাতাম? নেতৃত্ব ও ক্ষমতা যখন ছিল বাইরের লোকদের হাতে।

এ অবস্থায় শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ খুঁজে লাভ কী? আর যখন শরিয়াহ বাস্তবায়ন এই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্যই ছিল না, তখন এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার প্রশ্নও তো ওঠে না।

ইসলাম ও শরিয়াহ নিয়ে যে আবেগময় স্লোগানগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো মূলত মুসলমানদের আশ্বস্ত করার জন্যই ছিল। যাতে তারা এই বিভক্তিকে একটি ইসলামী বিপ্লব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা হিসেবে মনে করে শান্ত থাকে।

এরপর কী হলো?

কায়েদে আজম এই দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন। পাকিস্তানের মুসলমানরা যে স্বপ্নের জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিল, সেটি যেন পূরণ হলো। কিন্তু ক্ষমতা তখনও বাইরের লোকদের হাতেই রয়ে গেল।

সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক করা হলো একজন ইংরেজকে। পুরো দেশের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ তার হাতে তুলে দেওয়া হলো। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও এমন ব্যক্তিদের বসানো হলো, যারা ব্রিটিশ স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

পরে কাশ্মীরে সেনাবাহিনী পাঠানোর প্রয়োজন দেখা দিল। কায়েদে আজম সেনাবাহিনীকে কাশ্মীরে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তাঁর হাতে আসলে কতটুকু ক্ষমতা ছিল? সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক সেই আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালেন। কায়েদে আজমও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারলেন না।

এখানেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। বাবাকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হলেও প্রকৃত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব তাঁর হাতে দেওয়া হয়নি। বরং ক্ষমতা রয়ে গিয়েছিল সেনাবাহিনীর হাতে, আর সেই সেনাবাহিনীও ছিল একজন ইংরেজের নিয়ন্ত্রণাধীন। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে এই পরিস্থিতি আপনাকে বিস্মিত করবে।

এরপরও কয়েকজন সেনাপ্রধান দায়িত্বে এলেন, যারা আগে ব্রিটিশ ভারতের রয়্যাল ইন্ডিয়ান আর্মিতে কর্মরত ছিলেন। ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত ছিল। তারা ব্রিটিশবিরোধী ছিলেন না, বরং ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত ছিলেন।

অথচ বলা হয়েছিল, ব্রিটিশদের প্রতি ঘৃণা থেকেই আলাদা রাষ্ট্রের দাবি উঠেছিল।

বাস্তবতা হলো, মুসলমানদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের হাতে কখনোই চূড়ান্ত ক্ষমতা পৌঁছায়নি। বরং তা অব্যাহতভাবে ব্রিটিশ-অনুগতদের হাতেই রয়ে গেল।

দেশের প্রথম দিকের বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থাও পুরোপুরি ইংরেজি আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো। অর্থাৎ এটিকে নামমাত্রও ইসলামী প্রজাতন্ত্র বলা কঠিন ছিল। বরং সেখানে কার্যত ইংরেজি আইনই শাসন করছিল।

একদিকে শাসকরা ছিল বিদেশি, ব্যবস্থাটিও ছিল বিদেশি। অথচ মুসলমানরা দেশটি অর্জন করেছিল ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। কী অদ্ভুত এক বাস্তবতা!

বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝুন। আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা চলে যাওয়ার পর যদি দেশটির ক্ষমতা আমেরিকার প্রশিক্ষিত আশরাফ গনির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতো, তাহলে কেউ কি প্রশ্ন করত যে আফগানিস্তানে তো জিহাদ হয়েছে, আমেরিকাও চলে গেছে, তাহলে ইসলামী ব্যবস্থা কেন প্রতিষ্ঠিত হলো না?

কখনোই না।

কারণ শেষ পর্যন্ত ইংরেজ এবং ইংরেজদের প্রশিক্ষিত বাহিনীর মধ্যে পার্থক্যটাই বা কতটুকু? ব্রিটিশরা নিজেরা না থাকলেও তাদের প্রতিনিধি ও হাতিয়ারগুলো তো থেকেই যায়। তাই শুধু মুখ বদলালেই বাস্তবতা বদলে যায় না।

এরপরের ঘটনাগুলোও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। কায়েদে আজমের মৃত্যু রহস্যজনক ছিল বলে ব্যাপকভাবে আলোচনা রয়েছে। অর্থাৎ তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর লিয়াকত আলী খান নিহত হলেন। তাঁর হত্যাকারীকেও ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, যেগুলো তাঁর আইনজীবীর কাছে ছিল, সেগুলোও হারিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের কোনো সন্তোষজনক সমাধান হয়নি।

এসব ঘটনার পেছনে যে কিছু ছিল, তা বলাই বাহুল্য। এগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা ছিল না। বরং পর্দার আড়ালে আগে থেকেই পরিকল্পিত কিছু কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছিল। কারণ ক্ষমতা আমাদের হাতে ছিল না। আমরা বাইরের শক্তির স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছিলাম।

একটি অতিরিক্ত কথা

ইরানি বিপ্লব সফল হওয়ার পেছনে কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য ছিল।

প্রথমত, তাদের মধ্যে ছিল সারিবদ্ধ ঐক্য।

দ্বিতীয়ত, ছিল চিন্তার ঐক্য।

তৃতীয়ত, তাদের সামনে কোনো বিদেশি শক্তি বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

যে কোনো সংগঠন বা আন্দোলন যদি একটি পতাকার নিচে, একটি চিন্তা ও একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যায়, তাহলে একদিন না একদিন সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে এর একটি উদাহরণ হলো আফগানিস্তানে মোল্লা মুহাম্মদ উমর মুজাহিদ রহ.-এর ইসলামী আন্দোলন। তারা একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি পতাকার অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে তাদের সামনে কোনো বিদেশি শক্তি বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ফলে তারা সফল হয়েছিল।

কিন্তু আমাদের দেশে চিন্তার ঐক্যও ছিল না। কেউ ভারত বিভক্তির পক্ষে ছিল, আবার কেউ এই ধারণার সঙ্গে একমত ছিল না। এমনকি যারা বিভক্তির পক্ষে ছিল, তাদের নেতৃত্বও অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি স্বার্থের প্রতিনিধিদের হাতে ছিল।

সারির ঐক্যও ছিল না। ছিল অসংখ্য দল ও উপদল।

আর বিদেশি শক্তি কীভাবে বাধা হবে, যখন আন্দোলনের কর্মসূচি এবং ক্ষমতা দুটোই ছিল বাইরের লোকদের হাতে?

তাহলে ব্যর্থতা ছাড়া আর কী-ই বা অর্জন করা সম্ভব ছিল?

কথাটির সারসংক্ষেপ

আমাদের ব্যর্থতার কারণ এই নয় যে আমরা ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার মানুষ ছিলাম। প্রকৃত সত্য হলো, ভারত বিভক্তির প্রকৃত লক্ষ্যই প্রথম থেকেই আমরা আজ যেভাবে মনে করি, সেভাবে ছিল না। এরপর আমরা বসে ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে শুরু করেছি।

প্রকৃত লক্ষ্য ছিল অন্য কিছু, কিন্তু মানুষের সামনে ভিন্ন ধরনের স্লোগান তুলে ধরা হয়েছিল। জনগণ এক ছিল, কিন্তু ক্ষমতা ছিল অন্যদের হাতে। এ কারণেই ভারত বিভক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য আমরা বুঝতে পারিনি।

দ্বিতীয় কারণ

গণতান্ত্রিক পথের ব্যর্থতা

আমাদের আকাবিরগণ সংবিধান সংশোধনের জন্য ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসব প্রচেষ্টা কি সত্যিই শরিয়াহ বাস্তবায়নের জন্য? এই পথ ধরে কি ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? অতীতের ঘাটতিগুলো কি এভাবে পূরণ করা যাবে?

শুধু সংবিধান সংশোধন করলেই কি ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়?

ক্ষমতার লাগাম যাদের হাতে, তারা ব্রিটিশদের প্রশিক্ষিত এবং তাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী কাজ করে। তাহলে রাষ্ট্রের প্রকৃত বিষয়গুলো কি সত্যিই সংসদের হাতে?

এমনকি এই রাজনৈতিক অঙ্গনেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেব বলেছেন, সংসদ এখন প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ হয়ে গেছে। অন্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমাদের আইনগত খসড়া বিদেশ থেকে আসে এবং আমাদের দেশেই এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা পশ্চিমা স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এর পাশাপাশি মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেব এক বক্তব্যে বলেছেন

“মানুষ ইসলামের আধিপত্যের কথা বলে। কিন্তু আমি বলি, এখন আধিপত্যের কথা বলার সময় নয়। এখন আমরা ইসলামের প্রতিরক্ষার কথা বলছি।”

এ থেকে বোঝা যায়, এই পথের মাধ্যমে শরিয়াহ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তাহলে আমরা আশা হারাব না কেন? একই কাঠামোর মধ্যে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব কেন? বরং সেটিকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনই বা কেন?

তাহলে কি শুধু এই কথাটুকু বলে সন্তুষ্ট থাকব যে ফলাফল আমাদের দায়িত্ব নয়?

এ কথা এমন ক্ষেত্রে সঠিক হতে পারে, যেখানে বেছে নেওয়া পথটি শরিয়াহর দৃষ্টিতে مأمور به অর্থাৎ শরিয়াহ কর্তৃক নির্দেশিত পথ। কোনো ব্যক্তি যদি এমন পথে চলে, যে পথে চলার নির্দেশ শরিয়াহ তাকে দিয়েছে, তাহলে সে আল্লাহর নির্দেশ পালন করছে। ফলাফল অর্জিত হলো কি হলো না, তা ভিন্ন বিষয়। অন্তত সে পথে তার পুরো জীবন আল্লাহর ইবাদত হিসেবে গণ্য হতে পারে।

কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন, গণতন্ত্রের এই পথটি কি শরিয়াহ কোথাও নির্দেশ করেছে?

শরিয়াহ বাস্তবায়নের জন্য এই পদ্ধতির কথা কুরআনে নেই, হাদিসেও নেই। আল্লাহ তাআলা কিংবা তাঁর রাসুল ﷺ কোথাও এই পথ অবলম্বনের নির্দেশ দেননি। কোথাও এমন প্রমাণ নেই যে ভোটের মাধ্যমে ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুতরাং এই পথকে দ্বীনের অংশ মনে করা একটি গুরুতর ভুল। আমাদের অন্যান্য আকাবিরের বক্তব্যেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে মুফতি সৈয়দ মুখতারুদ্দিন শাহ সাহেব তাঁর আসরারুল উরুজ গ্রন্থে গণতন্ত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য থেকে কয়েকটি অংশ এখানে তুলে ধরছি।

“খেলাফত ব্যবস্থায় দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব মুসলিম শাসকের ওপর থাকে। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বীন ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই। প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব হলো জনগণের ইচ্ছা পূরণ করা এবং জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা।”
পৃষ্ঠা ৩৯

“প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ার জন্য জনগণের মতামতকে নিজের ও নিজের দলের পক্ষে নিয়ে আসতে হয়। জনমত নিজের অনুকূলে আনার জন্য সত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বরং একজনকে যেখানে যেতে হয়, যে ধরনের মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হয়, তাদের রং ধারণ করাকেই প্রয়োজনীয় মনে করা হয়, যাতে বিভিন্ন চিন্তা ও শ্রেণির মানুষের ভোট পাওয়া যায়। এর স্বাভাবিক ফল হলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য ধীরে ধীরে মুছে যায়। সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিথ্যা, অপপ্রচার, তোষামোদ, অসততা এবং এ ধরনের নানা নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ে।”
পৃষ্ঠা ৪২

“উপরের বিষয়গুলো থেকে বোঝা যায়, প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং পশ্চিমা প্রজাতন্ত্র কী ধরনের ব্যবস্থা। যদি এটিকে দাজ্জালিয়াত না বলা হয়, তাহলে আর কী বলা হবে? নিঃসন্দেহে প্রজাতন্ত্রবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে এবং প্রকৃত দ্বীনের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”
পৃষ্ঠা ৪৪

“উপরের বাস্তবতাগুলোর আলোকে স্পষ্ট হয় যে এই শয়তানি পথের মাধ্যমে ইসলাম বাস্তবায়নের আশা করা অর্থহীন ও নিষ্ফল প্রচেষ্টা। তাই মুসলমানদের এই প্রতারণাপূর্ণ দাজ্জালি ব্যবস্থাকে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। বরং তাদের উচিত নিজেদের পুরো জীবনকে বিশুদ্ধ ইসলামী নীতির ওপর গড়ে তোলার চেষ্টা করা।

যারা কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করেন, তাদের কাছে আমাদের শুধু এটুকুই আবেদন, তারা যেন এই ব্যবস্থার সঙ্গে ইসলাম নামটি যুক্ত না করেন। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে এমন কিছু যেন না থাকে, যার কারণে মানুষ এই প্রজাতান্ত্রিক সংবিধানের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে দ্বীনি কাজ বা সওয়াবের কাজ মনে করতে শুরু করে।”
পৃষ্ঠা ৪৫

উপরের বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট হলো, প্রজাতন্ত্রে অংশগ্রহণ কোনো দ্বীনি ইবাদত নয়। বরং কেউ কেউ এটিকে বাধ্যতামূলক পরিস্থিতির কারণে গ্রহণ করেন। তাহলে আমরা কীভাবে বলব, হতাশ হবেন না, ফলাফল আল্লাহর হাতে?

যে পথ আমরা বেছে নিয়েছি, সেটিই যখন দ্বীনের নির্দেশিত পথ নয়, তখন শুধু ফলাফল আল্লাহর হাতে বলে সেই পথ আঁকড়ে থাকার যুক্তি কোথায়?

আরেকটি বিষয় হলো, সংবিধান নিয়ে কাজ করতে করতে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে একদিন সংবিধান পুরোপুরি ইসলামী হয়ে গেল, তবুও কাজ শেষ হবে না। কারণ লক্ষ্য শুধু সংবিধানকে ইসলামী করা নয়। প্রকৃত লক্ষ্য হলো বাস্তব জীবনে ইসলামকে কার্যকর করা।

এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো, সেই সংবিধান বাস্তবায়নের ক্ষমতাও আমাদের হাতে নেই।

সংবিধান ইসলামী হয়ে যাওয়ার পরও যদি তা বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে আমাদের ইসলাম আবারও কয়েকটি পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে। যেমন এখন তা অনেকাংশে মসজিদ ও মাদরাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

আইন বাস্তবায়নের ক্ষমতা তখনও থাকবে তাদের হাতে, যারা নিজেরাই সেই আইনের অধীন নয়।

সম্প্রতি সংবিধানে এমন একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে যে সুদ বন্ধ করা হবে। কিন্তু প্রথম কথা হলো, এটি এখনো কেবল একটি প্রতিশ্রুতি। এর বেশি কিছু নয়। শায়খুল ইসলাম সাহেব নিজেও একটি দরসে বলেছেন, এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ যারা এই আইন বাস্তবায়ন করবে, তারাই নিজেরা সুদের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের ওপর আস্থা রাখার মতো পরিস্থিতিও নেই।

এর আগে আরও একটি বিষয় ভেবে দেখা দরকার। পাকিস্তানের প্রকৃত ক্ষমতাধর শাসক যে সেনাবাহিনী, তারা পর্দার আড়াল থেকে সংসদকে পাশ কাটিয়েও নিজেদের ইচ্ছামতো সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারে। প্রয়োজনে সংসদকে সেই পরিবর্তন অনুমোদন করাতেও পারে। এরপর সেগুলো বাস্তবায়িতও হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এর কিছু উদাহরণ আমরা দেখেছি।

আজ বলা হয়, এই পথেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এর উদাহরণ হিসেবে কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে পাস করা আইনকে সামনে আনা হয়।

এ বিষয়ে বলতে হয়, আলহামদুলিল্লাহ, কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে আইন পাস হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই আইনকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করা ও সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। কারণ সেটি বাতিল বা সংশোধনের চেষ্টাও চলছে।

কী ধরনের শাসক এরা? কী ধরনের মুসলমান এরা? তারা সংবিধানকেও মানে না, ইসলামকেও মানে না।

এখনো কাদিয়ানিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদের ব্যাপারে ইসলামী হুকুমের কথা বলা হয় যে তারা মুরতাদ হয়ে গেছে এবং শরিয়াহর বিধান তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড।

তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করত, তাহলে তাদের ব্যাপারে সেই সময়ই ইসলামী হুকুম কার্যকর হতো। যাই হোক।

তৃতীয় কারণ

ব্যক্তিগত আমলকে সামাজিক ব্যবস্থা মনে করা

বলা হয়, আমাদের আলেমরা মাদরাসার মাধ্যমে দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন এবং এর ফল হলো আজ পাকিস্তানের মসজিদগুলো প্রাণবন্ত। এই বক্তব্য এ পর্যন্ত সঠিক যে আমাদের আলেমরা জনগণের মধ্যে দ্বীনের জন্য অসাধারণ খেদমত করেছেন।

কিন্তু এখানে একটি বিষয় খেয়াল করা জরুরি। এসব খেদমত মূলত ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইসলাম যেমন একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা দিয়েছে, তেমনি সামাজিক জীবনের জন্যও রয়েছে স্বতন্ত্র, পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন একটি ব্যবস্থা।

এখানে আলোচনা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও শরিয়াহ বাস্তবায়ন নিয়ে। কিন্তু এমন সময়ে ব্যক্তিগত আমলের আলোচনা সামনে আনলে মূল বিষয়টি আড়াল হয়ে যায়।

আমরা প্রকৃত আলোচনা থেকে সরে গিয়ে কয়েকটি কথার মাধ্যমে নিজেদের সান্ত্বনা দিই। অথচ ব্যক্তিগত জীবনের আমলের সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

আমেরিকাতেও নামাজ নিষিদ্ধ নয়। রোজাও নিষিদ্ধ নয়। জাকাতও নিষিদ্ধ নয়।

নিষেধ যদি কোথাও থাকে, তাহলে তা ইসলামী ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।

আমাদের ব্যক্তিগত আমল ভালো, আমাদের মসজিদগুলো প্রাণবন্ত, আমাদের মাদরাসাগুলোও সুসংগঠিতভাবে চলছে। এর সরল অর্থ হলো, আমাদের আলেমরা ভালো কাজ করেছেন। তাঁরা নিজেদের জনগণের মধ্যে দ্বীনের খেদমত করেছেন এবং শাসনব্যবস্থার দায়িত্বও নিজেদের কাঁধে নিয়েছেন।

কিন্তু শরিয়াহর সীমারেখা কোথায়? কিসাসের বিধান কোথায়?

চতুর্থ কারণ

পরীক্ষার ভয়

বলা হয়, আফগানিস্তানে ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সাত বছর স্থায়ী হয়েছিল, এরপর তা ভেঙে পড়েছিল।

যদি এই কথার অর্থ হয় যে আমরা ইসলামী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পারি না, তাহলে আপনারাই স্বীকার করছেন যে ফলাফলের দায়িত্ব আমাদের হাতে নেই।

কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয়, আমরা ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব ঠিকই, তবে সেটিকে ধরে রাখা কঠিন হবে, তাহলে আমি বলব, পতন একটি ঘটনা এবং একটি পরীক্ষা, যা কখনো না কখনো আসবেই। কিন্তু পড়ে থাকার সিদ্ধান্ত মানুষের নিজের।

দেখুন, মোল্লা উমর মুজাহিদ রহ. সঠিক পথ বেছে নিয়েছিলেন। এমন একটি পথ, যা বিশুদ্ধ ইসলামী নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ কারণেই তিনি সফল হয়েছিলেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিয়েছেন। এরপর আবার সেই ব্যবস্থাকে পরীক্ষা করেছেন। সেই পরীক্ষাতেও তারা সফল হয়েছে।

আলহামদুলিল্লাহ, আজ তারা আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে।

বর্তমানে দাজ্জালি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তারা নানা ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও তারা সফল হচ্ছে। কারণ তারা দ্বীনের পথ ছেড়ে দেয়নি এবং নিজেদের ব্যবস্থাকে ধরে রেখেছে।

মূল কথা হলো, আমাদের সেই বিশুদ্ধ ইসলামী পথটিই বেছে নিতে হবে।

যতদিন আমরা এই দুনিয়ায় আছি এবং নিজেদের মুসলমান বলে দাবি করছি, ততদিন আল্লাহ তাআলা অবশ্যই আমাদের পরীক্ষা করবেন।

অমুসলিমদের আধিপত্যের কারণে ইসলামী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা কঠিন, এমন কথা বলা ঠিক নয়। সত্য হলো, আল্লাহ তাআলার চেয়ে বড় কোনো পরিকল্পনাকারী নেই।

তিনি যদি কোনো সময়কে এর জন্য নির্ধারণ করেন, তাহলে সেই সময়ের মধ্যেই কল্যাণ ও বরকত নিহিত থাকে।

আফগানিস্তান যদি বিশ বছর ধরে পরীক্ষার মধ্যে থেকেও থাকে, সেই সময়ের মধ্যেই তার সরকারও সংগঠিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের সত্যিকার মুমিনদের থেকে আলাদা করেছেন এবং তাঁর নেক বান্দাদের হাতে সরকার তুলে দিয়েছেন।

যদি কাফেররা আধিপত্যশীলও হয়, দুর্বলদের জন্য প্রতিরোধমূলক জিহাদের বিধান রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের চেয়ে শক্তিশালী শত্রুকেও পরাজিত করতে পারে। আফগানিস্তানে যেমনটি ঘটেছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আমাদের শুধু সেই সত্য পথ বেছে নিতে হবে, যে পথ ইসলাম আমাদের দেখিয়েছে।

গাজা ও ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকান। তারা ইসলামের দেখানো পথ বেছে নিয়েছে। এখন তারা ইহুদিদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করুক বা না করুক, তারা নিজেরাই ইতিমধ্যে বিজয়ী। ইনশাআল্লাহ, তারা বিজয়ী হবেই।

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। আর এখন তো কিয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসছে।

ইসলামের ওপর আমল করা এমন এক ব্যক্তির মতো, যে হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার ধরে আছে। কিন্তু আসল বিষয় হলো, আমাদের হাত থেকে ইসলামী নীতিগুলো যেন কোনোভাবেই পড়ে না যায়।

বিজয়ের প্রতিশ্রুতিও এই পথেই চলার মধ্যে রয়েছে।

কিয়ামতের দিন আমাদের কাছে ফলাফল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না। প্রশ্ন হবে, আমরা ইসলামী নীতি বেছে নিয়েছিলাম কি না।

আল্লাহ তাআলা বলেন

﴿وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ﴾

“তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও।”

অতএব প্রকৃত সফল সেই ব্যক্তি, যে এই পথ বেছে নেয়, পশ্চিমা ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করে এবং তার প্রতারণার ফাঁদে আর পা দেয় না।

পুরো আলোচনার সারকথা শেষ পর্যন্ত একটাই।

শরিয়াহ বাস্তবায়নের পথ কংগ্রেস নয়, বরং শায়খুল হিন্দের আন্দোলন।

وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، والسلام علیکم ورحمة الله وبرکاته.

 

Tags: #আলমিরসাদবাংলা#পাকিস্তান#রাজনীতিনিবন্ধ
ShareTweet

related-post

ইসলামী ব্যবস্থার সুফল | পঞ্চম পর্ব
আফগানিস্তান

ইসলামী ব্যবস্থার সুফল | পঞ্চম পর্ব

অক্টোবর 19, 2025
বুরকিনা ফাসোতে আল কায়েদার স্থানীয় শাখার অভিযানে চার আইএস সদস্য নিহত; অস্ত্র-শস্ত্র জব্দ
দাঈশ খাওয়ারিজ

বুরকিনা ফাসোতে আল কায়েদার স্থানীয় শাখার অভিযানে চার আইএস সদস্য নিহত; অস্ত্র-শস্ত্র জব্দ

মার্চ 2, 2025
ইসলামের নামে ইসলামবিদ্বেষ! ​
দাঈশ

ইসলামের নামে ইসলামবিদ্বেষ! ​

জানুয়ারি 24, 2026
পাকিস্তান; দাঈশের পুনর্জন্মের ঘাঁটি!
দাঈশ

পাকিস্তান; দাঈশের পুনর্জন্মের ঘাঁটি!

ফেব্রুয়ারি 7, 2026
ইসলামাবাদ কি আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে?
রাজনীতি

ইসলামাবাদ কি আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে?

নভেম্বর 6, 2025
আইএস একটি মহামারির নাম
দাঈশ

আইএস একটি মহামারির নাম

অক্টোবর 30, 2024
পাকিস্তানে দাঈশ খোরাসান (ISKP) শাখার দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে।
দাঈশ খাওয়ারিজ

পাকিস্তানে দাঈশ খোরাসান (ISKP) শাখার দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে।

অক্টোবর 5, 2025
সভ্যতার সংরক্ষণ : বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের নতুন অঙ্গন!
ব্লগ

সভ্যতার সংরক্ষণ : বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের নতুন অঙ্গন!

নভেম্বর 8, 2025
আখেরি যামানার ফিতনা এবং ইসলামী ব্যবস্থার দায়িত্বসমূহ!
ধর্মীয় নিবন্ধ

আখেরি যামানার ফিতনা এবং ইসলামী ব্যবস্থার দায়িত্বসমূহ!

নভেম্বর 5, 2025

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    • Trending
    • Comments
    • Latest
    উমাইয়াহ, আব্বাসী এবং উসমানী খিলাফতকালে খাওয়ারিজদের অস্তিত্ব

    উমাইয়াহ, আব্বাসী এবং উসমানী খিলাফতকালে খাওয়ারিজদের অস্তিত্ব

    অক্টোবর 28, 2024
    আইএস একটি মহামারীর নাম

    আইএস একটি মহামারীর নাম

    জুলাই 4, 2024
    রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর রাজনৈতিক জীবনের ওপর কারা আমলরত?

    রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর রাজনৈতিক জীবনের ওপর কারা আমলরত?

    সেপ্টেম্বর 2, 2024
    আফগানিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মনিটরিং কমিটি  নাকি এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ঠকানোর মেশিন?

    আফগানিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মনিটরিং কমিটি নাকি এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ঠকানোর মেশিন?

    জুলাই 16, 2024
    মাযলুমদের জন্য রহমত: শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    মাযলুমদের জন্য রহমত: শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ

    0

    দাঈশ খাওয়ারিজরা গাযযা ও তুফানুল আকসার নামে মানুষদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে

    0
    কলমের কণ্ঠে মুসলিম উম্মাহর করুণ দশার ব্যাপারে কিছু কথা

    কলমের কণ্ঠে মুসলিম উম্মাহর করুণ দশার ব্যাপারে কিছু কথা

    0
    মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় উমার

    মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় উমার

    0
    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    সেপ্টেম্বর 6, 2026
    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সেপ্টেম্বর 6, 2026

    news

    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    ইতিহাসের পাতায় উসমানি খিলাফত | পর্ব ৩১

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    পাকিস্তানে এখনো শরিয়াহ বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ!

    সেপ্টেম্বর 7, 2026
    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    ইসলামে বিদ্রোহ: সংস্কার ও বিপর্যয়ের মধ্যকার সীমারেখা!

    সেপ্টেম্বর 6, 2026
    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সত্যের আয়নায় ইসলামী ইমারতের পাঁচ বছরের অর্জন ও অভিযোগের জবাব! | পর্ব ২

    সেপ্টেম্বর 6, 2026
    • লাইব্রেরি
    আল-মুরসাদ সংযোগ : info@almirsaad.com

    সর্বজনীন অধিকার সকল মুসলমানের জন্য সংরক্ষিত .

    Welcome Back!

    Login to your account below

    Forgotten Password?

    Retrieve your password

    Please enter your username or email address to reset your password.

    Log In

    Add New Playlist

    No Result
    View All Result
    • বাড়ি
    • বিবৃতি
    • সংবাদ
    • বিশ্লেষণ এবং লেখা
    • ইসলামিক স্কলার
    • উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের
    • লাইব্রেরি
    • প্রকাশনা
    • ইনফোগ্রাফিক
    • সাবধান
      • عربي
      • EN
      • اردو
      • دري
      • پښتو

    সর্বজনীন অধিকার সকল মুসলমানের জন্য সংরক্ষিত .