সামাজিক দায়িত্ব: দুর্বল ও অসহায় শ্রেণির সহায়তা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা
যেকোনো রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দায়িত্বগুলোর একটি হলো মানুষের জীবনযাত্রার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানা সংকটের কারণে যারা অন্যদের তুলনায় বেশি সহযোগিতা ও সহায়তার প্রয়োজন বোধ করে, তাদের পাশে দাঁড়ানো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামী ইমারত আফগানিস্তানও এতিম, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং প্রত্যাবর্তনকারীদের পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য তার বিভিন্ন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ধারণ করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির সামাজিক ভিত্তি যেমন রয়েছে, তেমনি এর শিকড় ইসলামী মূল্যবোধের মধ্যেও নিহিত। কারণ অভাবগ্রস্তদের সহায়তা করা, অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং সংকটে পড়া মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
এতিম, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তার ক্ষেত্রে শহীদ ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তার বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, এসব শ্রেণির মানুষের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রদেশেও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব অর্থ কোনো পরিবারের সব প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম না হলেও যেসব পরিবারে নির্দিষ্ট আয় বা বেতন নেই, তাদের জীবনের কিছু মৌলিক প্রয়োজন পূরণে তা বাস্তব পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসাও ইসলামী ইমারতের সামাজিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আফগান সমাজে বহু বছর ধরে মাদকাসক্তি একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান ছিল এবং এর প্রভাব শুধু মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং তার পরিবার ও সামাজিক পরিবেশও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক বছরে কয়েক হাজার মাদকাসক্ত রোগী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন। মন্ত্রণালয় মাদকাসক্তদের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোও চালু রেখেছে এবং মাদকবিরোধী জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এই সামাজিক দায়িত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রত্যাবর্তনকারী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক আফগানের প্রত্যাবর্তনের জন্য এমন একটি সুসংগঠিত কর্মসূচি প্রয়োজন, যার আওতায় তাদের অভ্যর্থনা, মৌলিক প্রয়োজন পূরণ, আবাসনের ব্যবস্থা এবং সমাজে পুনরায় ফিরে আসার ও পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবর্তনকারী ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ, আশ্রয়ের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নাগরিক নথিপত্র সংগ্রহে সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ১৪০৫ অর্থবছরেও এসব পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জরুরি সহায়তার পাশাপাশি এতিম শিশু ও অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতিও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামাজিক সহায়তা তখনই দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন তা কেবল ত্রাণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, পুনর্বাসন, কারিগরি দক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়। এ কারণে অভিভাবকহীন শিশুদের সুরক্ষা ও শিক্ষার জন্য কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, সহায়তা কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণ এবং অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ হতে পারে।
এসব কার্যক্রম সত্ত্বেও কিছু বিরোধী গণমাধ্যম এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করে যে আফগানিস্তানে অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য কোনো সুসংগঠিত সহায়তা কর্মসূচিই নেই, কিংবা সরকার সামাজিক সমস্যাগুলোর প্রতি উদাসীন এবং এ বিষয়ে কোনো দায়িত্ব পালন করে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সরকারি প্রতিবেদনগুলো দেখায় যে এতিম, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে, মাদকাসক্তদের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো কার্যকর রয়েছে এবং প্রত্যাবর্তনকারী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের নগদ অর্থ, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয় প্রদান করা হচ্ছে।
আরেকটি দাবি হলো, আর্থিক সংকট এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে সরকার অসহায় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রম থেকে সরে গেছে। বাস্তবতা হলো, আফগানিস্তান এখনো অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাপক সামাজিক প্রয়োজনের মুখোমুখি। তবে একই সময়ে সরকারি সহায়তা কর্মসূচিগুলোর ধারাবাহিকতা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা প্রমাণ করে যে সামাজিক সেবাগুলো বন্ধ হয়ে যায়নি। এমনকি শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও তাদের নিজস্ব প্রতিবেদনে প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছে।
অতএব, বর্তমান সময়ের সামাজিক কার্যক্রমকে প্রকৃত বাস্তবায়িত কাজ, সরকারি প্রতিবেদন এবং জনগণের সেবাপ্রাপ্তির সুযোগের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এতিম ও বিধবাদের জন্য অব্যাহত সহায়তা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, প্রত্যাবর্তনকারীদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরিবেশ তৈরির কার্যক্রম প্রমাণ করে যে সামাজিক দায়িত্ব ইসলামী ইমারতের অর্জন ও কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভবিষ্যতে এসব সেবা অব্যাহত রাখা, এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা এবং সাময়িক সহায়তাকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে রূপান্তর করা এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে পারে।
ইসলামী ইমারতের ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং জাতিগত ও গোত্রগত বৈষম্য ছাড়াই অভাবগ্রস্ত ও অসহায় জনগোষ্ঠীর সেবায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে তাদের সমস্যাগুলোর কাছে পৌঁছে সেগুলোর সমাধানে সহযোগিতা করা যায় এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হয়।





















