মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষা এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য এমন একটি সরকারের প্রয়োজন যা ইসলামি, স্বাধীন, মুক্ত এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বিমুক্ত। ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে শুরু করে উসমানী খিলাফতের পতন পর্যন্ত, মুসলমানদের রাজনীতি, শাসন ও নেতৃত্বের একটি স্বাধীন ব্যবস্থা ছিল, যার অধীনে তারা একজন একক নেতার ছায়াতলে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সাথে বসবাস করত।
আমরা যদি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাই এবং হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের দর্শনের ওপর আলোকপাত করি, তবে দেখব যে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা; যাতে মুমিন ও সাহাবায়ে কিরাম একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পান এবং একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থার অধীনে একত্রে বসবাস করতে পারেন। মদিনায় পৌঁছানোর পর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি স্থানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন যেখানে মুমিনরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য সমবেত হতে পারতেন এবং ‘দারুন নাদওয়াহ’ (পরিষদ)-এর আদলে তাদের সামাজিক সমস্যাবলি সমাধান করতে পারতেন, যা পরবর্তীতে মসজিদে নববী হিসেবে বিকশিত হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের সাথেও চুক্তি করেছিলেন এবং এই চুক্তিগুলোর পরিধি নিকটবর্তী গোত্রগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন, যার ফলে দাওয়াতের এক নতুন পর্যায় শুরু হয়। পরবর্তীতে জিহাদ ফরজ হয় এবং মুমিনদের সংগঠিত করার কাজ শুরু হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনন্য নেতৃত্বে মুমিনরা অবাধ্য কাফির, মুশরিক এবং ইহুদি গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলা করতে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযানে যান, যা শেষ পর্যন্ত একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত করে। এই ধারা উসমানী খিলাফতের যুগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে অনৈক্য এবং অবহেলার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়।
ইসলামি শাসনের ছত্রছায়ায় কেবল মুমিনরাই সন্তুষ্ট ছিল না, বরং কাফির, মুশরিক, ইহুদি এবং পশুপাখিসহ সমস্ত জীবজন্তু একটি সুসংগঠিত আইন ব্যবস্থার অধীনে বসবাস করত, যা সবার জন্য শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করেছিল। উসমানী খিলাফতের পতনের পর ইহুদি, খ্রিস্টান, মুশরিক এবং নাস্তিকরা ঐক্যবদ্ধ হয় এবং দুইশ কোটিরও বেশি মুসলিমের লাগাম তাদের হাতে চলে যায়। তারা যুবসমাজের কাছে আধুনিক ভ্রান্ত মতাদর্শের পরিচয় করিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ‘ইজম’ বা মতবাদের মাধ্যমে তাদের নিজেদের প্রভাবে নিয়ে আসে।
আজকের অনেক নীরব রাজনীতিবিদ, আলেম এবং বুদ্ধিজীবী মূলত এই আদর্শিক বিজয়েরই ফসল। তারা আন্তর্জাতিক আদালত, জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। বাহ্যিকভাবে তাদের দাবি ছিল জালেমের হাত টেনে ধরা, মজলুমের আর্তনাদ শোনা এবং বিশ্বে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; অথচ পর্দার আড়ালে একটি গোপন শক্তি এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
মুসলিমরা নির্যাতিত হয়েছে, উম্মাহর ভূখণ্ড দখল করা হয়েছে, শিশুদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, বোমা ফেলে জনস্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে এবং অসহায় গাযযা জায়নবাদের অত্যাচারের কবলে পড়েছে; অথচ এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ক্ষমতাহীন হয়ে বসে আছে। তবে আলহামদুলিল্লাহ একদল সচেতন যুবক জেগে উঠেছে, আফগানরা এই একমেরু বিশ্বশক্তিকে (যুক্তরাষ্ট্র) চরম আঘাত হেনেছে, হামাস বাহিনী তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার ও জেরুজালেম মুক্ত করার সংগ্রাম শুরু করেছে এবং অন্যরা আহমাদ আল-শারআ’র নেতৃত্বে দামেস্ক বিজয় সম্পন্ন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বিশ্বের অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই উদ্দেশ্যে তারা দুটি প্রধান কেন্দ্রকে তাদের প্রভাবে নিয়ে এসেছে—একটি হলো ইসরায়েল এবং অন্যটি পাকিস্তান; যাতে মধ্যপ্রাচ্য, ইরান ও আফগানিস্তানের শক্তিকে দুর্বল করা যায়। তবে আলহামদুলিল্লাহ, তাদের অনেক চক্রান্ত বিশ্বের কাছে উন্মোচিত হয়েছে, তাদের মিথ্যা প্রকাশ পেয়েছে এবং তারা ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ব এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমদের শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ইসলামি রাজনীতির অঙ্গন বিস্তৃত হচ্ছে এবং মুসলিমদের মধ্যে সচেতনতার চেতনা দিন দিন বাড়ছে। ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করতে এবং এই জালিম শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে সমস্ত মুসলিমকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
