অর্ধ-শতাব্দীর ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, পাকিস্তানের প্রক্সি আর্মি বা প্রতিনিধি সেনাবাহিনী মুসলিমরা নিজেরা তৈরি করেনি। বরং, এটি ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি কর্তৃক গঠিত হয়েছিল, বিশেষ করে উপজাতীয় এলাকাগুলোতে ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য চলমান জিহাদ দমন করতে স্থানীয় সহযোগীদের ব্যবহার করে তারা এই বাহিনী গড়ে তোলে।
ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা তাদের বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যও এই বাহিনীকে ব্যবহার করত, যেমন উসমানী খিলাফতের পতন ঘটানো এবং এই জাতীয় অন্যান্য লক্ষ্য অর্জন। দুর্ভাগ্যবশত, পাকিস্তান সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত এই প্রক্সি আর্মি একই পথ অনুসরণ করে চলেছে। যারা সবচেয়ে বেশি অর্থ দেয়, তারা তাদের সেবা দিতেই প্রস্তুত থাকে। পাকিস্তানের আগ্রাসী বাহিনীর অন্ধকার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ, যার কিছু উদাহরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ১৯৭০ সালে জেনারেল জিয়াউল হকের অধীনে জর্ডানে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে বোমা হামলা এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে শহীদ করা।
২. সোমালিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর অংশ হিসেবে সোমালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক অপরাধ সংঘটন।
৩. বাঙালি মুসলিমদের গণহত্যা এবং তাদের নারীদের সম্ভ্রমহানি ও অবমাননা।
৪. ১১ সেপ্টেম্বরের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের সেবা করা; হাজার হাজার আফগান, পাকিস্তানি এবং অন্যান্য অভিবাসী মুজাহিদদের শহীদ করা, তাদের বন্দি করা এবং হাজার হাজার ডলারের বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া।
৫. বিশ্বের তৎকালীন একমাত্র ইসলামি সরকার, ইসলামি ইমারাত আফগানিস্তান (IEA)-এর প্রথম পতনে মূল ভূমিকা পালন করা। এগুলো এই প্রক্সি আর্মির অবিস্মরণীয় অপরাধ।
আজ আবারও যখন বৈশ্বিক কুফরি শক্তির ফিলিস্তিনি, আফগান এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর জন্য একটি ঈমান-বিক্রেতা ও ভাড়াটে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হলো, তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্লজ্জভাবে ট্রাম্পের নেতৃত্বে এবং মানবতার ঘাতক নেতানিয়াহুর সাথে অংশীদারিত্বে তাদের সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
এই সমস্ত তথ্য এটিই স্পষ্ট করে যে, পাকিস্তানের এই প্রক্সি আর্মি না ইসলামি, না তারা পাকিস্তানের জনগণের জন্য লড়ছে, আর না মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কাজ করছে। এটি মূলত একটি ভাড়াটে সেনাবাহিনী, যারা মজলুমদের বিরুদ্ধে প্রতিটি জালিম ও ঔপনিবেশিক শক্তির গোলামি করে।
